ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক যেন এক দূর্ভোগের রাস্তা

177

শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী শিপন: ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কাজলা ,শনিরআখড়া ,রায়েরবাগ ,সাইনবোর্ড ,চিটাগাং রোড,কাঁচপুর,মদনপুর,সোনারগাঁ,মেঘনা এলাকা সহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যেেম বাসা বাড়ি,বাজার এলাকা সহ সর্বত্র আবর্জনা রাস্তার পাশে ফেলে আসছে। তাতে বিদখুটে দুর্গন্ধ সারাদিন পথচারি আর সড়কে চলাচল করা যাত্রীদেরকে সহ্য করতে হচ্ছে। রাস্তার পাশে,ব্রীজের গোড়ায় সেই সব আবর্জনা ফেলার ফলে কাক কুকুরের উৎপাত লক্ষ্য করা গেছে,অনেক সময় আবর্জনা রাস্তার অনেকাংশ দখল করে রাখে বিধায় রাস্তাটি সংকুচিত হয়ে পড়ে। পায়ে হাটা জনসাধারন সহ স্কুল কলেজ গামী শিক্ষার্থীরা পড়ছে দারূন ভোগান্তিতে। নাক চেপেও রক্ষা পাওয়া যায়না এই কারনে যে,সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে কে বা কাহারা এইসব আবর্জনায় আগুণ ধরিয়ে দেয়,ফলে পুরো এলাকাটা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে,পরের দিন সকাল পেরিয়ে দুপুর পর্যন্ত সে আগুনের রেশ থেকে যায়। এই ধোঁয়ার গন্ধটা এতটাই ক্ষতিকারক যে,মানুষের নিশ্বাসের সাথে পেটে সহ শরীরের অংশে লেগেই থাকে। এই আগুনের ধোঁয়া এলাকার চারপাশে ছড়িয়ে বি¤্রি দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। ধোঁয়া,গন্ধ এতটাই তীব্র যে আশে পাশের দুই তিন কিেিলামিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বাতাসটুককে ভারি করে ফেলছে। বাসা বাড়ির দরজা জানালা বন্ধ করেও রেহাই পাওয়া মুসকিল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কঁঁাঁচপুর ও সোনারগাঁও মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় যে আবর্জনার স্তুপ দীর্ঘ পাঁচ ছয় বছর যাবৎ ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে তাতে করে সে সব আবর্জনা নদীর পানিতে মিশে পানি দূষিত করছে আর সে পানিতে দূর্গন্ধ সহ্য করা সম্ভব পর হচ্ছেনা। মেনিখালী খালটি দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে। খালের কোল ঘেঁষে যে সব বসতীরা বাস করছে তারা এই গন্ধময় দুরাবস্থার কারণে দারূন ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে হাবিবপুর মাদ্রাসার কোমলমতি ছাত্ররা ও অত্র গ্রামের অধিকাংশ জনই এই খালের ময়লা দূর্গন্ধযুক্ত পানিতে গোসল করতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমানে চলছে মৌসুমি ফলের রমরমা ব্যবসা সে ক্ষেত্রে লিচুর পাতা সমেত ফলের কদর বেমি বিধায় বাজার পরিস্কার করার পর টন কে টন লিচুর পাতা এসব ময়লায় জমানো হয আর সেগুলোতে আগুন লাগোনোর পর কি পরিমান দূগর্ন্ধ নির্গত হয় তা শুধুমাত্র অত্র এলাকার ভুক্তভোগিরাই টের পাচ্ছেন। অপর দিনে অত্র হাবিবপুর,পিরোজপুর ,দড়িগাও,রতনপুর,ভবনাথপুর,ভাটিবন্দা,জিয়া নগর গ্রামের সাধারণ জনগনের এই খালের পানির উপর অনেকখানি ভরসায় থাকতে হয়। পিরোজপুর গ্রামের সজিব মিয়া আক্ষেপ করে জানান, এই খালের পানি আমাদের বাপ দাদার আমলে মা চাচিরা গোসল,ধোঁয়া,রান্নার কাজে ব্যবহার করতো কিন্তু প্রভাবশালীর মহলের ইশারায় এই মেনিখালি খালটি বর্তমানে কোনরুপ ব্যবহারের উপযোগী রইলনা। অপর দিকে মোগড়াপাড়া বাজারে চায়ের দোকানে আলাপ করতে গিয়ে জিয়া নগর গ্রামের মাসুম বিল্লাহ, রতনপুর গ্রামের রুবেল মিয়া,জিয়া নগরের জামাল হোসেন জানায়,বর্ষা মৌসুম এই খালটি পানিতে ভরপুর থাকে আর বাকী সময়টুকু হাটু পানি,অথচ এই খালটি দিয়ে সারা বছর বড় বড় নৌকা দিন রাত চলাচল করতো। অত্র এলাকার অনেক প্রবীণ ব্যবসায়ীরা এই খালের উপর দিয়ে বিভিন্ন বড় বড় বাজারে বড় পণ্যবাহী নৌকা দিয়ে চলাচল করতো। সরেজমিনে দেখা যায় এই খালের কোল ঘেঁষে বিভন্ন স‘মিলের গাছের গুড়ি ফেলে অনেকস্থান বেদখল হয়ে আছে যথাযত ভাবে খালটি ব্যবহার না হওয়ার কারণে। সর্বোপরি অত্র এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করে আবর্জনায় আগুল লাগিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য লোপ পাওয়া থেকে এবং ফেলে দেওয়া ময়লা আবর্জনা গুলোকে নদীর পানির সাথে মিশে দুষিত হওয়ার করাল গ্রাষ থেকে মুক্ত করার অনুরোধ করছি। বিশেষ করে আবর্জনা সমূহতে আগুণ লাগানো থেকে বিরত রেখে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ভুমিকা দাবি করছি।