চিতলমারীতে গৃহবধু হত্যার বিচারের দাবীতে মানবন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

288

বিভাষ দাস: বাগেরহাটের চিতলমারীতে সাদিয়া আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল, পথসভা, মানববন্ধন ও স্থানীয় প্রশাসনের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছে এলাকাবাসি। পাঁচ শতাধিক মানুষের বিক্ষোভ মিছিলে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে চিতলমারী উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর, থানা সহ গোটা বাজার এলাকা। বিক্ষোভস্থলে কাঁদতে কাঁদতে বার বার মূর্ছা যান সাদিয়ার পিতা দরিদ্র কৃষক হেদায়েত তালুকদার। মিছিল শেষে তারা সাদিয়া বেগমকে হত্যাকারীদের আটক ও বিচারের দাবীতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট সাড়ে ১২টায় স্মারকলিপি প্রদান করেন। তবে সাদিয়াকে হত্যা করা হয়েছে না-কি সে আত্মহত্যা করেছে, তা নিয়ে ধ্রু¤্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গৃহবধু সাদিয়া বেগমের বাবার গ্রাম পাটরপাড়া হতে শত শত নারী, পুরুষের বিক্ষোভ মিছিল পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। পরে সমবেত বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে যায়। সেখানে সড়ক অবরোধ করে পথসভা হয়। পথসভায় বক্তব্য রাখেন চিতলমারী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান মোঃ রাশেদ শেখ। এরপর প্লাকার্ড, ব্যানার নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে তারা মানববন্ধন করে। সাদিয়া আক্তারের হত্যাকারীদের আটক ও বিচারের দাবীতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট সাড়ে ১২টায় স্মারকলিপি প্রদান করেন। এরপর সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল থানায় গিয়ে থানা পরিদর্শক অনুকুল সরকারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্যামপাড়া গ্রামের মোঃ শাহাদাত তালুকদারের কন্যা সাদিয়া আক্তার (২২) এর সংগে বড়বাড়ীয়া গ্রামের মোঃ হাই শেখের পুত্র মোঃ জাকারিয়া শেখের সাথে আড়াই বছর আগে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। বিয়ের এক মাস পরে জামাতা জাকারিয়া শেখ মালয়েশিয়া চলে যায়। যদিও মোঃ জাকারিয়া বিগত ১১ বছর যাবৎ মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছে। বিয়ের পর থেকে জাকারিয়া শেখের সাথে তার বর ভাবীর অবৈধ সম্পর্কের কথা শোনা যায় এবং দিনে দিনে তা স্পস্ট হতে থাকে। জাকারিয়ার অনুপস্থিতিতে বড় জা শ্বশুর শাশুড়ী এবং ভাসুরের ছেলে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বাড়িয়ে দেয়। গত ২৭মে, ২০১৯ তারিখে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাদিয়ার শ্বশুর বাড়ীর লোকজন পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে।

মৃত সাদিয়া আক্তারের পিতা মোঃ হেদায়েত তালুকদার জানান, “মেয়ের স্বামী জাকারিয়া শেখ মালয়শিয়া থাকে। এই সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়ের উপর নানামুখি নির্যাতন চলছে। সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সাদিয়ার শ্বাশুড়ী ফতু বেগম, ভাসুরের স্ত্রী সাবিনা বেগম ও ভাসুরের ছেলে মাহমুদ শেখ সাদিয়াকে ব্যাপক মারপিট শেষে গলা টিপে হত্যা করে। হত্যার পর তারা সাদিয়ার লাশ ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার করে।”

চিতলমারী থানার পুলিশ পরিদর্শক অনুকুল সরকার জানান, বড়বাড়িয়া গ্রামের জাকারিয়া শেখের স্ত্রী সাদিয়া শ্বশুরবাড়িতে গত সোমবার মারা যায়। লাশ উদ্ধার করে মঙ্গলবার ময়না তদন্তে পাঠানো হয়। সাদিয়া বেগমের স্বামী বিদেশে থাকে এবং তাদের দাম্পত্য জীবনে মরিয়ম নামে তিন মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত স্বামীর সাথে সাদিয়ার মনোমালিন্য ছিল। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই ঘটনায় থানায় সাদিয়ার শ্বাশুড়ী ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে। অপরদিকে সাদিয়ার বাবা দাবী করেছেন তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।