চিনিকলে ১৬ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত: কর্মচারীরা বেতন-বোনাস পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন

128

দিনাজপুর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের আওতাধীন সেতাবগঞ্জ চিনিকলে ২০১৮-২০১৯ উৎপাদন মৌসুমে উৎপাদিত ১৬ কোটি টাকার অধিক ৩ হাজার ২৮২ দশমিক ২৫ মেঃ টন চিনি অবিক্রিত অবস্থায় গুদামে পড়ে রয়েছে। এই চিনি বিক্রি না হওয়ার কারনে শ্রমিক কর্মচারীদের গত এপ্রিল মাস থেকে বেতন ভাতা প্রদান বন্ধ রয়েছে। যার ফলে সেতাবগঞ্জ চিনি কলটি বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। আসন্ন ঈদের আগে বেতন-বোনাস পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন শ্রমিক কর্মচারীরা। এ নিয়ে মিল অভ্যন্তরে চলছে নানা অসন্তোষ শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতার চাপ ও কৃষকদের পাওনা পরিশোধ নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিনিকল কর্তৃপক্ষকে। চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফ জানান, সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে সেতাবগঞ্জ চিনিকল ৩ হাজার ২ শ ৮২ মেঃ টন চিনি উৎপাদন করেছে। সরকারী নির্ধারিত দরে যার বাজার মূল্য ১৬ কোটি ৪১ লক্ষ ৫ শ টাকা, নতুন উৎপাদিত চিনি গুনগত মান সম্পন্ন হওয়ার পরেও বেসরকারী রিফাইনিং মিল গুলো মুক্ত বাজার অর্থনীতির সুযোগে সরকারের নির্ধারিত দরের চেয়ে কম দামে বাজারে চিনি বিক্রি করছে। ফলে আমাদের চিনি অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। এদিকে ডিলারাও তাদের নির্ধারিত কোটার চিনিও উত্তোলন করে নাই। স্থানীয় তালিকা ভূক্ত ডিলাররা বিভিন্ন অজুহাতে ৩ বৎসর যাবৎ চিনি তুলছেন না, গুদাম জাত চিনি বিক্রি করার জন্য ব্যবসায়ীদের কাছে বার বার ধর্না দিয়েও আশানুরুপ চিনি বিক্রি করতে পারে নাই মিল কর্তৃপক্ষ। এই বিপুল পরিমান অর্থ যোগানে কারোও সহযোগিতা না পাওয়ায়, চিনি বিক্রির উপর নির্ভর করে আছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সকলের মুখে এক কথা চিনি বিক্রি হলে বেতন ভাতা বোনাস প্রদান সম্ভব হবে। এমতাবস্থায়, এই অর্থ সংকট কাটাতে দ্রুত চিনি বিক্রির ব্যবস্থা ও চিনির মূল্য সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে সমন্নয় সাধন না করা হলে সংকট আরো ঘনিভুত হতে পারে বলে অভিজ্ঞমহলের ধারনা।