নগ্ন ভিডিও ধারণের ঘটনায় আটক ইউপি সদস্যের মৃত্যুর গুজব!

103
আকিবুল ইসলাম হারেছ: কুমিল্লার চান্দিনায় প্রেমিক যুগলের নগ্ন ভিডিও ধারণের ঘটনায় ইউপি সদস্য আটকের একদিন পর কারাগারে ওই ইউপি সদস্যের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে ভিকটিম ও আওয়ামীলীগ নেতার বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (২৪ মে) সন্ধ্যার পর থেকে দফায় দফায় উপজেলা বাড়েরা ইউনিয়নের দোবারিয়া গ্রামের ভিকটিম, মামলার বাদী ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি সুলতান মাস্টারের বাড়িতে ওই হামলা চালিয়েছে তারা। এ ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে ওই প্রেমিক যুগল। শুক্রবার রাত থেকে বাড়ি ছাড়া হয়ে আছে তারা। মামলার বাদী স্কুল ছাত্রী জানায়, ওয়ার্ড মেম্বার আনোয়ার হোসেন ও তার সঙ্গীরা আমাদেরকে পৃথক বাড়ি থেকে ডেকে একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ করে। পরে আমার এবং ওই ছেলের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় এক লাখ টাকা আদায় করে আমাদের মুক্তি দেয়। সম্প্রতি আবারও চাঁদাদাবী করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। কিন্তু আমাদের পরিবার তাদেরকে আবারও চাঁদা না দেওয়ায় ওই ভিডিওটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে শুরু করে চক্রটি। বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ মে) আমরা চান্দিনা থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর পুলিশ ওই মেম্বারকে গ্রেফতার করে।
পরদিন শুক্রবার বিকেলের আটক ইউপি মেম্বার আনোয়ার হোসেন এর স্ত্রীর মোবাইলে ফোন করে কারাগারে ওই মেম্বারের মৃত্যু ঘটেছে বলে জানানোর পর মানুষজন আমাদের বাড়িতে আসতে শুরু করে। সন্ধ্যার পর আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খোরশেদ আলম জানান, সন্ধ্যায় আটক ইউপি মেম্বারের স্ত্রী ফোন করে জানায় কারাগার কর্তৃপক্ষের লোক পরিচয় দিয়ে তার স্বামীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। সাথে সাথে আমি চান্দিনা থানার (ও.সি) সাহেবকে অবহিত করি। তারপর বিস্তারিত আমার জানা নেই।ক্ষতিগ্রস্থ আওয়ামীলীগ নেতা সুলতান মাস্টার জানান, যখন ভিডিওটি ধারণ করে ওই মেম্বার, তখন বিষয়টি সমাধান করতে এলাকার লোকজন আমার উপর দায়িত্ব দেয়। কিন্তু ওই মেম্বার আমার কোন কথাই কর্ণপাত না করায় আমি ওই বিষয়ে আর কোন কথা বলিনি। গত বৃহস্পতিবার ছেলে ও মেয়ে উভয় মিলে থানায় গিয়ে অভিযোগ করার তাদের সন্দেহের তীর আমার উপর পরে। যারফলে কারাগারে ওই মেম্বারের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে এক রাতে আমার ৩টি দোকান ঘর ভাংচুর করে মালামাল লুটে নেয়। একই সাথে ছেলে ও মেয়ের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে অন্তত ৩০-৪০জন। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো আবুল ফয়সল জানান, প্রথম ঘটনাটি জানার পর আমরা নিয়মিত মামলা রেকর্ড করে ওই মেম্বারকে আটক করে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠাই। শুক্রবার কয়েকজন আমাকে ফোন করে জানায়, কারাগারে ওই মেম্বার অসুস্থ হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর তার মৃত্যু ঘটে। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি মেম্বারের মৃত্যুর ঘটনাটি গুজব। রাতে ছেলে-মেয়ে এবং সুলতান মাস্টারের বাড়িতে হামলার ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here