ধর্ম ভাগ্নিকে ধর্ষণ করে অন্তসত্ত্বা : ধর্ষক গ্রেফতার!

265

সুজন আহম্মেদ: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ধর্ম ভাগ্নিকে ধর্ষণ করে অন্তসত্ত্বা ও কৌশলে তার গর্ভপাত করানোর অভিযোগে ধর্ম মামা লেবু মিয়াকে সু-কৌশলে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মশিউর রহমানের নেতৃত্বে থানা পুলিশ তাকে তার বাড়ির এলাকা হতে আটক করে। জানা যায় উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের চৌদ্দমাথা পাইকারটারী গ্রামের ফজলুল হকের পুত্র লেবু মিয়া (৪০)। সে নারী লোভী। ওই এলাকায় তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিক মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে প্রতারনা করার অভিযোগ রয়েছে। সে বিভিন্ন প্রভাবশালীর ছত্র ছায়ায় নানা রকম অপকর্ম করেও থাকে ধরা ছোয়ার বাইরে। লেবু প্রায় দেড় বছর আগে তার পাশর্বর্তী গ্রামের এক মহিলার সাথে ধর্ম বোনের সম্পর্ক গড়ে তোলে। সম্পর্কের কারনে সে ওই মহিলার বাড়িতে প্রায়ই যাতায়াত করত। যাতায়াতের এক পর্যায়ে ওই মহিলার অনুপস্থিতিতে তার ১৪ বছরের কিশোরী কন্যাকে বিয়েসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে লেবু মিয়া প্রায়ই তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায় ওই কিশোরী ৫ মাসের অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়লে দ্রুত ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে লেবু মিয়া পুনরায় ওই বাড়িতে আসলে অন্তসত্ত্বা কিশোরীর মা তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে শারীরিক মেলামেশার কথা স্বীকার করে তাকে বিয়ে করা সম্ভব না বলে কিছু টাকা নিয়ে সন্তান নষ্ট করার প্রস্তাব দেয়। এ ঘটনায় ভূক্তভোগী কিশোরীর মা গত ০৮ মে রংপুর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে। যার নং-৫৩/১৯। মামলাটি তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় গত ১৭ মে মর্ণেয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম ও ওই ওয়ার্ডের মৃত মতলেব মিয়ার স্ত্রী হামিদা বেগম (৩০) লেবুর সাথে যোগসাজস করে অন্তসত্ত্বা কিশোরীকে তার বাড়ির বাইরে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ট্যাবলেট খাওয়ার কথা বলে গর্ভপাত করানোর ট্যাবলেট খাওয়ায়।

পরে তার রক্ত ক্ষরন শুরু হলে ওই কিশোরীর মা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। সেখানে তার মৃত সন্তান প্রসব হয়। পরে তার মা গত মঙ্গলবার ঘটনার সাথে জড়িত লেবু, ইউপি সদস্য শরিফুল ও হামিদাকে আসামী করে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় লেবু মিয়াকে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ। লেবু মিয়া পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে বিরূপ প্রকৃতির সৃষ্টি হয়। তারা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মশিউর রহমান বলেন লেবু মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে প্রতারনা করার অভিযোগ রয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেফতার করি। মামলার অপর আসামী ইউপি সদস্য শরিফুল ও হামিদাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় নেয়া হবে।