মেয়ের বাড়ির ইফতার মুম্বাই জিলাপি, বিরিয়ানি ও খিচুড়ির

88

সালাহ্উদ্দিন শুভ: বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে বিয়ের পর থেকে প্রতি বছরই বাবার বাড়ি থেকে বেশ আয়োজন করে মেয়ের বাড়ি ইফতার সামগ্রী পাঠানো হয়। যুগ যুগ ধরে এ প্রথা চলে আসছেই। মেয়ের বাবার বাড়ি স্বচ্ছল হোক আর অস্বচ্ছল হোন রমজান মাসে বিভিন্ন উপাদান সামগ্রী দিয়ে ইফতার পাঠাতেই হবে। এসময় পুরো রমজান মাস জুড়ে গড়ে উঠে মৌসুমী ইফতার সামগ্রী বিক্রেতাদের দোকান। এখন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মেয়ের বাড়ির ইফতার নিয়ে ব্যাাপক বেচাকেনা চলছে।

ইফতার সামগ্রীর মাঝে বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের সাথে বেশী চাহিদা দেখা গেছে মুম্বাই জিলাপি,বিরিয়ানি ও বুনা খিচুড়ির। ইফতারের দোকানে বসে খেতে আবার নরম খিচুড়ির চাদিা বেশী লক্ষ্য করা গেছে। কমলগঞ্জর বড় বাজার শমশেরনগর বাজারের স্থানীয় দোকান মৃদুল হোটেল রেস্তুরা, ভাই ভাই হোটেল, আলী ফুডস, জয়গুরু ফুডস, কুমিল্লা হোটেলসহ বিভিন্ন মৌসুমী ইফতার সামগ্রীর দোকানে মালিক ও কর্মচারীরা বেস্ত ইফতার সামগ্রী বিক্রি নিয়ে। বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় মৃদুল হোটেল রেস্তুরায় গিয়ে দেখা যায় শুধুমাত্র মেয়ের বাড়ির ইফতার বিক্রিতে তারা ব্যস্ত।

দোকানের টাঙানো মূল্য তালিকায় দেখা যায় সাদা মিষ্টি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা,লাল ও সাদা মিলে ১৫০ টাকা, ১নং নিমকি ১২০ টাকা, সাধারণ নিমকি ১০০ টাকা, জিলাপি বড় (মুম্বাই জিলাপি) ১০০ টাকা, জিলাপি ছোট) ৮০ টাকা, দই ১৬০ টাকা, বিরিয়ানি ১৬০ টাকা, খিচুড়ি (বুনা খিচুড়ি) ১০০ টাকা ভাজি চানা (ছোলা ভাজি) ১২০ টাকা, কাঁচা চানা ১২০ টাকা,পিয়াজু ১২০ টাকা, শাক বড়া ১৪০, আলুর চপ ১২০ টাকা বেগুনি ২০০ টাকা ও জালি বড়া ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দোকানী হাজী আকমল হোসেন বলেন রমজানের প্রথম দিকে সাধারণ রোজাদাররা ইফতার কিনে বাড়ি নিয়েছেন। এখন রমজান যতই বাড়ছে মেয়ের বাড়ির ইফতার সরবরাহের কাজে তারা এখন ব্যস্ত। তিনি আরও বলেন, দোকানে বসে যারাই ইফতার করেন তাদের চাহিদা বেশী নরম খিচুড়ির। আর মেয়ের বাড়ির ইফতারে মিষ্টি নিমকি, মুম্বাই জিলাপি আর বিরিয়ানির চাহিদা বেশী। প্রতিদিন গড়ে এ দোকানে দেড়’শ থেকে দুই’ শ কেজি মিষ্টি বিক্রি করছেন। কোন দিন ৫০০ কেজিও বিক্রি করতে হয়।

একই অবস্থা দেখা যায় শমশেরনগর স্টেশন রোডের ভাই ভাই হোটেল, কুমিল্লা হোটেল, আলী ফুডস ও মৌসুমী দোকান গুলিতে। আর শুধু মাত্র মিষ্টি, নিমকি,লবঙ্গ ও প্যাড়া মিষ্টি বিক্রি করছেন জয়গুরু ফুডস।কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ এলাকায় শাহজালাল হোটেল, ভানুগাছ বাজারে গ্রামের বাড়ি, রাজমহল, পানাহার, রাধুনী ও আল আকাবায়ও ইফতার সামগ্রী বিক্রিতে এখন ব্যস্ত দোকান মালিক ও কর্মচারীরা। কমলগঞ্জের আদমপুর, পতনউষার ও মুন্সীবাজারেও ইফতারের বাজার জমজমাট। ইফতার সামগ্রীর সাতে আরও যুক্ত রয়েছে খেজুর, আঙ্গুর আপেল ও আম।

মেয়ের বাবা জয়নাল আবেদীন বলেন, বিয়ে দিলেই মেয়ের সাথে সম্পর্ক শেষ হয় না। তার সাথে ও তার শ্বশুর বাড়ির সাথে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় রমজানে ইফতার ও মধু মাসে আম কাঁঠালি দিয়ে। দেওয়া কোন বাধ্যবাধকতা না হলেও দিতে হয় আন্তরিকতার কারণে। আর বছরের পারিবারিক বাজেটে এর হিসেব ধরে রাখতে হয়। শমশেরনগর সুজা মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ ম. মুর্শেদুর রহমান বলেন, মেয়ের বাড়ি ইফতার ও আম কাঁঠালি দেওয়া সিলেট অঞ্চলের একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। এটাকে সবাই এখনও ধরে রেখেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here