বগুড়ায় অপরাধ দমনে সাইবার ইউনিটের ভূমিকা প্রশংসনীয়

48
????????????????????????????????????

জিএম মিজান: ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেসব প্রতারণা বা অপরাধ সংঘটিত হয় সেগুলোকে বলা হয় সাইবার ক্রাইম। বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধ বৃদ্ধির সাথে সাথে এর নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। দেশীয় ইন্টারনেট ব্যবহাকারীদের সাথে প্রতারণা করে তাদের ক্ষতি করতে ছোট বড় সাইবার অপরাধীরা তাদের জাল বিছিয়ে রেখেছে। এসব সাইবার অপরাধী ফেসবুক, বিকাশ বা রকেট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, ব্যাংকের ইনফরমেশন চুরি, সরকারি ও বেসরকারি ওয়েবসাইটের গোপন তথ্য চুরি ও বিভিন্ন টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানির তথ্য চুরি করে সাইবার অপরাধ করে আসছে। এর ফলে সাইবার ক্রাইমের শিকার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সামাজিকভাবে লজ্জার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এসব সাইবার অপরাধীদের ধরতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে সাইবার পুলিশ বগুড়া টিম।

২০১৮ সালের ১৪ আগস্ট পরীক্ষামূলক বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁঞা’র উদ্যোগে সাইবার পুলিশ বগুড়া নামে একটি ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে বগুড়া জেলা পুলিশ সাইবার অপরাধের ওপর প্রথম কার্যক্রম শুরু করে। শুধু বগুড়া জেলায় নয় দেশের অন্যান্য জেলা থেকেও প্রাপ্ত সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে এই ইউনিট কাজ করে। এরপর ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর এআইজি (ক্রাইম ওয়েস্ট), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ঢাকা থেকে নির্দেশনার পর বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁঞা সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করেন। সাইবার ইউনিট গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত এই ইউনিটের কাছে সাইবার অপরাধ সম্পর্কিত ৭৮টি অভিযোগ করেছিল ভুক্তভোগীরা। যার মধ্যে ৪৯টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মামলা হয়েছে ৯টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, গত ২১ এবং ২২ ফেব্রুয়ারি দেশের গোপালগঞ্জ এবং চাঁদপুর থেকে দুই হ্যাকারকে গ্রেপ্তার করে। যারা সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ২১টি সরকারি বিভিন্ন ওয়েবসাইট হ্যাক করে তথ্য চুরি এবং ডিভাইস দিয়ে নিজেদের ক্ষমতাকে জাহির করার চেষ্টা করছিল।

এছাড়া গত এপ্রিলের ২৩ ও ২৪ তারিখে হবিগঞ্জের মাধবপুর এবং লক্ষীপুরের রায়পুর থানায় অভিযান চালিয়ে সাইবার পুলিশ ইউনিট ক্রিপ্টোকারেন্সি চক্রের তিনজনকে আটক করে। যারা বাংলাদেশে নিষিদ্ধ অনলাইনে ভার্চুয়াল মুদ্রার (বিট কয়েন, বিট কয়েন ক্যাশ, লাইটকয়েন, ইথেরিয়াম) ব্যবসা দীর্ঘদিন থেকে করে আসছিল। অনলাইনভিত্তিক যে অপরাধ সংঘটিত হয় অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে এবং মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যে অপরাধগুলো শনাক্ত করা হয়, সেগুলো অদিকতর যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা। শনাক্তপূর্বক অপরাধের ধরণ বুঝে পুরো বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা। বগুড়ার সাইবার পুলিশের পরিদর্শক এমরান মাহমুদ তুহিন এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন ইন্টারনেট ব্যবহার করে কিন্তু ইন্টারনেট সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা রাখেন না এমন ব্যক্তিরা সাইবার ক্রাইমের শিকার হচ্ছেন। আবার যেসব ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি দুর্বল সেসব ওয়েবসাইট হ্যাকাররা খুব সহজে হ্যাক করতে পারে। এ পর্যন্ত সাইবার অপরাধ সম্পর্কিত ৭৮টি অভিযোগ করেছিল ভুক্তভোগীরা। যার মধ্যে ৪৯টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মামলা হয়েছে নয়টি।

এর মধ্যে বগুড়া সদর থানায় সাতটি, শেরপুর ও ধুনটে একটি করে মামলা হয়েছে। বগুড়া জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁঞা এ প্রতিবেদক-কে বলেন, মানি লন্ডারিং, ক্রিপ্টো কারেন্সি বিজনেস, ওয়েবসাইট হ্যাক এবং ফেসবুকের মাধ্যমে জিম্মি করে টাকা আদায়ের মতো সাইবার অপরাধের ঘটনা দেশে ঘটছে। সাইবার ক্রিমিনালদের খপ্পর থেকে বাঁচতে যিনি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তাকে খুব বেশি সচেতন থাকতে হবে। ব্যক্তিগত তথ্য যতটুকু সম্ভব গোপন রাখতে হবে।

অপরিচিত লিংক, অপরিচিত ওয়েবসাইট, অবৈধ পর্নোসাইট বা ব্যবসার নামে লোভনীয় কিছু সাইট থাকে যেগুলোর মাধ্যমে অনলাইন ব্যবহারকারীকে ফাঁদে ফালানোর চেষ্টা করা হয়। কাজেই এগুলো থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে কিছু হ্যাকার, ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায়ী এবং স্প্যামারদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। কিছু অর্গানাইজড ক্রাইম আছে যেগুলো আমাদের নজরদারিতে আছে, যা ভবিষ্যতে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারি। সাইবার ক্রাইমের শিকার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুবিধার্থে সাইবার পুলিশ বগুড়ার মোবাইল অ্যাপস, ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ আছে, এখানে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here