তাপদাহে দুর্বিষহ জনজীবন

100

মো. সজিব ভূঁইয়া: সবার মুখে মুখে এখন ফরিয়াদ ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে’। বাতাসে আগুনের হল্কা। ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ। অস্বাভাবিক শুষ্কতা ও প্রখর খরতাপে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে কুমিল্লার বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার কৃষি, শিল্প, মৎস্য ও পরিবেশ। মানুষ রীতিমতো হাঁপাচ্ছে। অসহ্য গরমে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। প্রচন্ড গরমে লোডশেডিং চলছে রীতিমতো পাল্লা দিয়ে। ভর দুপুরে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এর থেকে মানুষ নিস্কৃতি পাওয়ার উপায় নেই। রোগ বাড়ছে শিশু-বৃদ্ধদের। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো লেখাপড়া করতে পারছেন না প্রচন্ড গরমের কারণে। খরতাপে কর্মজীবীদের অনেকেই মাঠেঘাটে কাজ করতে নামতে পারছেন না। প্রতিদিনই অসহনীয় গরমে মানুষ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। যার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এছাড়া প্রচন্ড গরমে জনজীবন হয়ে উঠেছে অসহনীয়। সকালের সূর্য যেন উদয় হচ্ছে আগুনের হল্কা নিয়ে। বেলা যত বাড়ছে তাপমাত্রা তত বাড়ছে। এতে জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছে অসহনীয়। খরতাপে পুড়ছে মানুষ পুড়ছে প্রকৃতি। আর টিনের ঘরে তাপ যেন চুইয়ে নামছে। অসহনীয় খরতাপ আর ভ্যাপসা গরমে-ঘামে মানুষ নাকাল। সর্বত্র দুর্বিষহ জনজীবন। চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে হঠাৎ করেই আকাশে মেঘ দেখা গেলেও হালকা বাতাসের মধ্যেই তা রয়েছে সীমাবদ্ধ। আর এতে খরার অসহ্য দহন আরও বেড়ে চলছে। দিনব্যাপী সিয়াম সাধনার পর বিদ্যুতের লোডশেডিং ও বিভ্রাট জনজীবনের ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। জ্যৈষ্ঠের শুষ্ক আবহাওয়ায় তাপপ্রবাহে দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে জনজীবন। গরম নয় এ যেন আগুনের কড়াইয়ে একটু শীতলতা চাই- মানুষজনের মনের আকুতি ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে ছায়া দে’। প্রচন্ড গরমে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। তীর্যক সূর্যের দহনে দিনমান অতিবাহিত হচ্ছে। বেড়েই চলেছে জনজীবনে অস্থিরতা। এমনকি রাতের বেলায়ও স্বস্তি মিলছে না। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে রাতের সর্বনি¤œ তাপমাত্রাও বেড়ে গেছে। এতেই গরমের তীব্রতা অনেক বেশি। এদিকে সর্বত্র হাঁপাচ্ছে মানুষ, সৃষ্টি হচ্ছে দমবন্ধ অবস্থা। এলাকায় সর্বত্র অব্যাহত তাপদাহে, ঘামে নাকাল শিক্ষার্থী, পথচারী, কর্মজীবী লোকজন। কিশোররা দল বেঁধে পুকুর-দীঘি, নদী-খালে ঝাঁপ দিয়ে গা শীতল করছে। চলমান তাপপ্রবাহের কারণে আয়-রোজগারে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে দিনে এনে দিনে খাওয়া দিনমজুর ও নি¤œআয়ের শ্রমিক-কর্মজীবীরা। প্রচন্ড গরমের কারনে রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু-বৃদ্ধসহ অনেকেই। আকাশে মেঘ জমলেও বৃষ্টি হচ্ছে না, তাই বৃষ্টির আকুল প্রত্যাশায় আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রহর গুণছে মানুষ।