মোংলা বন্দরে পন্যবাহী যান থেকে অবৈধ চাঁদাবাজীর অভিযোগ!

145

মাহফুজুর রহমান বাপ্পী: দেশের অর্থনীতির দ্বিতীয় লাইফ লাইন মোংলা সমুদ্র বন্দর বাগেরহাট জেলায় হলেও খুলনা শ্রমিক ইউনিয়নের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজীতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ট্রাক, লরী, কাভার্ডভ্যান মালিকরা। এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনে বাগেরহাট জেলা ট্রাক, লরী, কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির নের্তৃবৃন্দ বলেছেন, মোংলা বন্দরের আমদানী-রপ্তানীসহ বন্দরের শিল্প এলাকায় পন্য আনা-নেয়ার কাজে আসা ৫ শতাধিক ট্রাক, লরী, কাভার্ডভ্যান থেকে প্রতিদিন লাখ টাকা চাঁদাবাজী করছে খুলনা শ্রমিক ইউনিয়নের দুই নেতা। বুধবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বাগেরহাট জেলা ট্রাক, লরী, কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির কার্য্যকরী সভাপতি কাজী আবুল হাসান এমন অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাগেরহাট জেলা ট্রাক, লরী, কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির নের্তৃবৃন্দ দাবী করেন, খুলনা মহনগর শ্রমিক দলের সভাপতি আ. রহিম বক্স দুদুমিয়া, শ্রমিক নেতা সরোয়ার হোসের ওরফে সরো কাজী খুলনা শ্রমিক ইউনিয়নের নামে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার দ্বিগরাজে ট্রাক, লরী, কাভার্ডভ্যান থেকে চাঁদাবাজী করেছে। মোংলা বন্দর ও শিল্প এলাকায় প্রবেশেদ্বার দ্বিগরাজে অবৈধ টোল আদায় কেন্দ্র খুলে বিএনপির এই দুই শ্রমিক নেতা তাদের লোকজন দিয়ে শ্রমিকদের তথাকথিক কল্যান তহবিল নামে ৬ চাকার প্রতিটি ট্রাক, লরী, কাভার্ডভ্যান থেকে ৫০ টাকা, ১০ চাকার প্রতিটি ট্রাক, লরী, কাভার্ডভ্যান থেকে ১০০ টাকা ও প্রতিটি ট্রেলার থেকে ১৫০ টাকা অবৈধ চাঁদা আদায় করছে। প্রকাশ্যে এসব চাঁদাবাজী হলেও প্রশাসন ও আইন-শৃংখলা বাহিনী কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। বেপরোয়া এই চাঁদাবাজীর ফলে ট্রাক, লরী, কাভার্ডভ্যান মালিকরা অর্থনৈতিক ভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে চাঁদাবাজী করে কয়েকজন শ্রমিক নেতা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে মোংলার দ্বিগরাজে খুলনা শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদাবাজী বন্ধের দাবী জানানো হয়।

বাগেরহাট জেলা ট্রাক, লরী, কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলনে কার্য্যকরী সভাপতি ছাড়াও অর্থ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, বাগেরহাট জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এস এ খালেক, জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক নেতা শেখ ফরহাদ উদ্দিনসহ বিপুল সংখক ট্রাক, লরী, কাভার্ডভ্যান মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।