ট্রাজেডিকে বদলে ট্রফি ঘরে তুললো টাইগাররা  

179
আসিফ আহমেদ তন্ময়: ট্রাজেডির শুরুটা ঘরের মাঠ মিরপুর থেকে। এরপর কলম্বো হয়ে দুবাই, ২০০৯ থেকে ২০১৯ মাঝে কেটে গেছে দশটা বছর আর ছয়টি ফাইনাল। প্রতিবার ফাইনাল মানে প্রতিপক্ষের ট্রফি উদযাপন দেখা টাইগার ভক্তদের। অবশেষে আয়ারল্যান্ডে অবসান ঘটলে এই ট্রাজেডির। রবার্ট ব্রুসের পাশের দেশেই স্কটিশ রাজার মতোই সপ্তমবারের চেষ্টায় বিজয় ছিনিয়ে আনলো টাইগাররা। ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ ফেভারিটের মতোই। টুর্নামেন্টের প্রত্যেকটি ম্যাচই হেসে খেলে জিতেছিল টাইগাররা। কিন্ত ফাইনাল এলেই যে খেই হারিয়ে ফেলাকে অভ্যাসে পরিণত করা বাংলাদেশকে নিয়ে আশার পাশাপাশি শঙ্কার কালোমেঘ ঠিকই উঁকি দিচ্ছিল ভক্তদের মনে। দিনের শুরুতেই টস কথা বলে বাংলাদেশের পক্ষে। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ চেজ করা টাইগারদের জন্য ক্যাপ্টেন পরে ব্যাট করাকেই বেছে নেন। আগের দু ম্যাচের মত এদিনো ওপেনিংয়ে দারুণ শুরু পায় ক্যারিবীয়রা। দুই ওপেনার শাই হোপ ও আ্যাম্রিজ দুজনেই তুলে নেন অর্ধশতক। ম্যাচের বয়স যখন ২০.১ বল ঠিক তখনই বৃষ্টির হানা। প্রায় পাঁচ ঘন্টা পর যখন ম্যাচ শুরু হয় তখন কার্টেল ওভারে খেলা নেমে আসে ২৪ ওভারে। অবিচ্ছিন্ন ১২১ রানের জুটিটাকে ১৪৪ এ নিয়ে থামেন শাই হোপ। এরপর আর কোন উইকেট না হারিয়ে বোর্ডে উইন্ডিজ তোলে ১৫২ রান। বাংলাদেশের পক্ষে মিরাজ এক উইকেট লাভ করেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ধারাবাহিকতা ধরে রাখে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি। সৌম্যর ব্যাটে শুরু থেকেই ছিল ধার। একের পর এক চোখ ধাধানো শর্ট খেলেছেন যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন। এদিন অবশ্য ১৮ করেই থামতে হয় তামিমকে। মাঝে সাব্বির কোন রান না করে ফিরে গেলেও ক্রিজে তখনো সৌম্য অবিচল। এরপর জুটি বাধেন মুশফিক সোম্য। উনপঞ্চাশ রানের এ জুটি ভাঙে সোম্যর ৬৬ রানের বিদায়ের মধ্য দিয়ে। মুশি মিঠুন দলকে জয়ের পথে রাখলেও দুজনের দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ায় ভক্তদের মনে আবারো কালো মেঘের ঘনঘটা দেখা দিতে থাকে। এ মেঘ আর ভর করে পথ আটকাতে দেননি মাহমুদউল্লাহ আর মোসাদ্দেক। মোসাদ্দেকের ঝড়ো অপরাজিত ফিফটি আর মাহমুদউল্লাহর দায়িত্বশীল ইনিংসে প্রথমবারের মত কোন টুর্নামেন্টের ফাইনাল জেতার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ। ম্যান অফ দ্যা ফাইনাল মোসাদ্দেক আর টুর্নামেন্ট সেরা শাই হোপ। এই জয় বিশ্বকাপের আগে টাইগারদের মনোবল বাড়াতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে এই জয়ের আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে এখন থেকে নিয়মিতই বড় ম্যাচ জিতবে দল বলে বিশ্বাস ভক্তদের।