পদ্মা নদীর তীর থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু কাটার অভিযোগ

79

বিপ্লব আহমেদ: ফরিদপুরে পদ্মা নদীর তীর থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপরিকল্পিতভাবে নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের ৩০ থেকে ৫০ মিটারের মধ্যে নদীর ভিতর থেকে এ ভাবে বালু কাটায় আসছে বর্ষায় নদীর ভাঙ্গনসহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ধলার মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ওই এলাকার অন্তত অর্ধ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে পদ্মা নদীর তীরে অন্তত ছটি খনন যন্ত্র (এসকেবেটর) দিয়ে বালু কাটা হচ্ছে। সাথে সাথে ওই বালু ট্রাকে ভর্তি করে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নদীর তীর থেকে বালু ভর্তি ট্রাকগুলি নদীর তীর সংরক্ষণের বোল্ডারের উপর দিয়ে অনবরত ভাবে চলাচল করছে।

এলাকাবাসী জানায়, গত একমাস ধরে এভাবে পদ্মা নদীর তীর থেকে বালু কাটা হচ্ছে। এ কাজে ৬টি খনন যন্ত্র ও বালু টানার ব্যাপারে ৪৮টি ট্রাক কাজ করছে। প্রতিটি ট্রাকে প্রায় ৩০০ ঘন ফুট বালু ধরে। ট্রাকে বালু ভর্তি ও তার হিসার করার দায়িত্বে রয়েছেন শরিফ শেখ (২৭) নামে এক ব্যক্তি। তিনি প্রতিটি ট্রাক ভর্তি হওয়ার পর স্লিপ প্রদান করেন। এভাবেই ট্রাকগুলি ধলার মোড় থেকে বালু নিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দিচ্ছে।

ট্রাক চালক সাদ্দাম হোসেন জানান, এ এলাকা থেকে প্রতি ঘনফুট বালু ৩০০টাকা দরে তারা শহরের বিভিন্ন জায়গায় পৌছে দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার তিনজন বাসিন্দা জানান, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে বালু কাটায় নদীর ভিতরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আসছে বন্যার সময় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদীতে স্রােত হলে খনন কবলিত এ এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান এ কাজে জড়িত, আমরা প্রতিবাদ জানাবো কোথায়? কার কাছে প্রতিকার চাইবো? একটি খনন যন্ত্রের চালক আয়নাল হোসেন জানান, ডিক্রির চর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসানের নির্দেশে এবং তার তত্ত্বাবধানে পদ্মা নদীর তীর থেকে বালু কাটা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানই ভালো বলতে পারবেন।

ডিক্রির চর ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বলেন, মাটি কাটার ব্যাপারে তাদের প্রশাসনিক অনুমতি আছে। বর্তমানে আমি ঢাকায় অবস্থান করছি, ফরিদপুরে এসে সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনে বালু তোলা মেশিন সরিয়ে দিবো। ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের অন্তত ৫ কিলোমিটারের মধ্যে বালু কাটা হলে তা নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের ক্ষতি করবে। তিনি বলেন, এ বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here