বাজারে সয়লাব সোনারগাঁয়ের বিখ্যাত লিচু

86

শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী শিপন: নারায়ণঞ্জের সোনারগাঁয়ের বিখ্যাত লিচু বাজারে এসেছে। ইতোমধ্যে বাজারেও বিক্রি শুরু হয়েছে। ফলে ব্যস্ত সময় কাটচ্ছেন ব্যবসায়ী ও ফরিয়ারা। সোনারগাঁয়ের প্রতিটি লিচু গাছের ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে কাঁচা ও অর্ধ পাকা লিচু। বাগান গুলোতে ক্ষনে ক্ষনে বেজে উঠছে টিন ও বাঁশের তৈরী বাজনা। কাঁক ও বাঁদুড়ের উপদ্রোপ থেকে লিচুকে রক্ষার জন্য ইলেট্রিক বাতি, বাঁশ ও টিনের তৈরী বাজনা স্থাপন করা হয়েছে গাছে গাছে। এ বছর দেশের আবহাওয়া লিচু চাষের অনুপোযোগী হওয়ার কারনে অকালেই লিচুতে রঙ ধরেছে। তাছাড়া লিচুর আঁশ পরিপূর্নও হয়নি। ফলে এ বছর লোকসানে পরতে হবে বলে চাষীরা জানান। সোনারগাঁয়ের লিচু দেশের অন্যসব অঞ্চলের লিচুর আগে বাজারে আসে বলে এ লিচুর প্রতি ক্রেতার আগ্রহ থাকে বেশি। তবে লিচুতে রঙ ধরাতে বাগানে বাগানে দেওয়া হয়েছে কিটনাশক।

সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন লিচু বাগান ঘুরে দেখে যায়, এখন প্রতিটি বাগানের লিচু গাছে থোকায় থোকায় কাঁচা পাকা লিচু ঝুঁলছে। ঝাঁকড়া গাছের ডালে ডালে ঝুলন্ত লাল টকটকে রংয়ের ছোট ফলের গুচ্ছ লিচুর দৃশ্য খুবই মনোরম। ব্যবসায়ীরা প্রতিটি গাছে বৈদ্যুতিক বাতি, টিনের বাজনা বাজিয়ে উচ্চ শব্দ করে বাঁদুড় ও কাকের উপদ্রোপ থেকে লিচুকে রক্ষা করতে রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছে। রাতে এভাবে পাহাড়া দেওয়ার সময় প্রতিটি বাগানে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়ার খরা থাকায় লিচুর ভাল ফলন হয়নি। অতিরিক্ত খরা থাকায় লিচু প্রায় স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ দিন আগে পেকেছে। তবে এটাকে অকালপক্ক বলা যায়। তাছাড়া অতিরিক্ত খরা থাকার কারনে লিচু ফেঁটে যাচ্ছে।

জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে প্রায় ৩ শতাধিক লিচু বাগান রয়েছে। এসব লিচু বাগানে গত বছরের তুলনায় এবছর লিচুর আশানুরূপ ফলন হয়নি। সঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় এমনটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লিচুর বাগান মালিকরা। সোনারগাঁয়ের কদমী, চায়না-৩, মোজাফফর পুরি, এলাচী, বাদামী(পাতি) এ পাঁচ ধরনের লিচুর চাষ হয়ে থাকে। তবে অন্যান্য লিচু থেকে বর্তমানে কদমী লিচু চাষের প্রতি মনোযোগী হয়ে পড়ছে অনেকে। লিচুর মধ্যে সবার আগে বাদামী (পাতি) লিচু পাকে বলে ক্রেতা সবার আগে এ লিচু হাতে পায়।

উপজেলার অর্জুন্দী, হাতকোপা, দরপত, ছাপেরবন্ধ, গোয়ালদী, টিপরদী, হরিষপুর, ভট্টপুর, খাসনগর, চিলারবাগ, দৈলরবাগ, পানাম, কৃষ্ণপুরা, গোবিন্দপুর, দত্তপাড়া, বাগমুছা, লোকশিল্প জাদুঘর, গাবতলী, হারিয়া, বৈদ্যেরবাজার, তাজপুর, সাদীপুর, ইছাপাড়া, দুলালপুর, বারদী, সেনপাড়া, বালুয়া দিঘীরপাড় ও ভরৎসহ বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৩ শতাধিক লিচু বাগান রয়েছে। তবে অন্যান্য লিচুর চাইতে কদমী লিচু চাষ করে অধিক মুনাফা পাওয়া যায় বলে এ লিচু চাষের প্রতি মনোযোগী হয়ে পড়ছে লিচু

বাগানীরা। কারন, এ প্রজাতির লিচু আকারে বড় ও সুস্বাদু হয়ে থাকে। সোনারগাঁয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানের তুলনায় সর্ব প্রথম পাতি লিচু পরে কদমী লিচু ও সর্বশেষ বোম্বাই লিচু পেকে থাকে। স্থানীয়রা জানান, অন্যান্য এলাকার লিচুর চাইতে সোনারগাঁয়ের লিচু আকারে একটু বড় ও সুস্বাদু হওয়ায় এ লিচুর চাহিদা বেশি রয়েছে। আর সোনারগাঁয়ের লিচু সবার আগে বাজারে আসে তাই এ লিচুর চাহিদা একটু বেশি।

পানাম গাবতলী এলাকার লিচু ব্যবসায়ী শাহিন আলম জানান, এ বছর লিচুর মুকুল অতিরিক্ত খরা, ও ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে লিচুর ফলন ভালো হয়নি। এ বছর লিচু চাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

ব্যবসায়ী মুকুল মিয়া বলেন, লিচুর ফলন না দেখেই বাগান মালিকের কাছ থেকে ক্রয় করে থাকি। লিচু ব্যবসায়ীরা ভাগ্যের উপর নির্ভর করে লিচু ব্যবসা করে। এ বছর ফলন ভালো হয়নি। তুলনামুলকভাবে সোনারগাঁয়ের লিচু বেশ দাম থাকবে।

এদিকে এলাকাবাসী জানান, সোনারগাঁওয়ের লিচু আকারে বড় ও সুস্বাদু হওয়ার কারনে চাহিদা বেশি থাকে। লিচু ব্যবসায়ীরা বাজারে সাধারণত শুরুতে এক‘শ কদমী লিচু শ’ ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করে থাকেন। বোম্বাই লিচুর শ’ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, পাতি লিচুর শ’ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করে থাকেন। তবে এবছর দাম একটু বেশী হবে।

সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিকা আক্তার জানান, সোনারগাঁয়ে লিচু চাষের জন্য মাটি ও আবহাওয়া বেশ উপযোগী। তবে অতিরিক্ত খরা হঠ্যাৎ ঝড় ও শিলা বৃষ্টি হওয়ার কারনে লিচুর গুটি গাছ থেকে ঝড়ে পড়েছে। তাই এ বছর সোনারগাঁয়ের লিচুর ভাল ফলন হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here