বিএনপির তৃণমূলে জনপ্রিয়তাই ডাঃ শাহাদাতের মনোনয়ন প্রাপ্তির মূল চাবিকাঠি

687
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্রগ্রমের হেভিওয়েট আসন হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম কোতয়ালী ৯ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কে হবে তা নিয়ে কৌতুহলের অন্ত নেই চট্রগ্রাম বিএনপি কর্মী সমর্থকদের মাঝে। বিএনপির নেতা কর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের সাথে কথা বলে জানা যায় দলীয় অনেক প্রার্থী থাকলেও মনোনয়ন দৌড়ে বেশ এগিয়ে আছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ডাঃ শাহাদাত হোসেন। জানা যায়, ২০০৭ সালে ওয়ান ইলাভেনের চরম দুঃসময়ে চট্টগ্রাম বিএনপির প্রায় সব শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের মধ্যে যখন কেউ জেলে বন্ধী আবার কেউ বিদেশে পাড়ি জমালে নেতৃত্বের সংকটে পরে বিএনপি। সেই চরম দঃসময়ে সকল রক্তচক্ষু কে উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির হাল ধরেন এই তরুন তুর্কী নেতা। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সেই সময়ে বট বৃক্ষের ছায়ার মতো আগলে রেখে দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি। শুধু তাই নয় সেই সময়ে জেলে আটক বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও কর্মীদের নিয়মিত জেলখানায় দেখতে যেতেন তিনি। দুঃসময়ে পাশে থাকার পুরষ্কার স্বরূপ দলীয় হাইকমান্ড ২০০৯ সালে উনাকে মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করোন। তখন থেকেই দলের তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের সাথে উনার ব্যাপক আত্বিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষেশ করে ২০১২ সালে পলোগ্রাউন্ড মাঠে বেগম জিয়ার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশ অত্যান্ত সুনিপুন ও দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করেন ডাঃ শাহাদাত। জেলে আটক নেতা কর্মীদের দেখতে যাওয়া, তাদের পরিবারের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা, তার্থিক সহায়তা প্রদান, সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের সহজে আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা সর্বোপরি দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব প্রদানের গুনাবলী তাকে দলের তৃণমূলে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে। দলের হাইকমান্ড ও তার নেতৃত্ব দক্ষতায় সন্তুষ্ট হয়ে ২০১৭ সালে তাকে মহানগর বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত করে। তৃনমূলে ব্যাপক জনপ্রিয় এই নেতার মনোনয়ন প্রাপ্তির ব্যাপারে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি পদ প্রত্যাশী মেজবাহুল ইসলাম নোমান বলেন “কোতোয়ালি আসনে শাহাদাত ভাইয়ের বিকল্প অন্য কেউ হতে পারে না। দলের চরম দূর্দিনে যিনি বট বৃক্ষের ছায়া হয়ে আছেন তৃণমূলের কর্মীদের উপর, উনাকে মনোনয়ন দিয়ে দলীয় হাইকমান্ড তৃণমূলের প্রত্যাশা পূরণ করবে এটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস ” মহানগর ছাত্রদল নেতা ওমর কায়ুম বলেন ” দলোর জন্য শাহাদাত ভাইয়ের অবদান উনার চরম শত্রুরাও অস্বীকার করবে না
কর্মীবান্ধব এই নেতার মনোনয়ন প্রাপ্তি হবে দলোর প্রাণ তৃণমূলের কর্মীদের প্রাথমিক বিজয়। সুষ্ঠ নির্বাচন হলে উনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন ” শুধু মহানগর নয় উত্তর ও দক্ষিন জেলা বিএনপির তৃণমূলের কাছেও সমান জনপ্রিয় এই নেতা। উত্তর জেলা যুবদলের প্রভাবশালী নেতা শাহজাহান শাহিল বলেন ” চট্রগ্রাম ৯ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির একমাত্র দাবিদার শাহাদাত ভাই। উত্তর জেলার নেতাকর্মীরা যখনি দলীয় ব্যাপারে উনার কাছে গিয়েছে, উনি সহায়তা করেছেন নির্দ্বিধায় ” দক্ষিন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এস এম ফারুক হোডেন বলেন ” তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের আস্থা ও ভরসার প্রতীক শাহাদাত ভাই। উনাকে মনোনয়ন প্রদান করে দলীয় হাইকমান্ড দলের প্রতি উনার ত্যাগ ও ভালোবাসার মূল্যয়ন করবেন আশাকরি ” কোতোয়ালী আসনে নিজের মনোনয়ন প্রপ্তির ব্যাপারে ডাঃ শাহাদাত বলেন ” বর্তমান নির্বাচন কমিশন ঠুঁটো জগন্নাথ। এই আজ্ঞা বাহক নির্বাচন কমিশন দ্বারা শুধুমাত্র বাকশালী মার্কা নির্বাচন করা সম্ভব। পক্ষপাত দুষ্ট এই বাকশালী নির্বাচন কমিশনের অযৌক্তিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করে বাকশালীদের বিরাগভাজন হয়েছেন খোদ ইসি মাহবুবুর রহমান তালুকদার। তিনি আরো বলেন, বেগম জিয়া সহ সকন রাজবন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তি, বিগত ১০ বছরে মিথ্যা ও গায়েবী মামলার শিকার নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহার, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নির্ধারণ, জনগনের নির্বিগ্নে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদানের নিশ্চয়তা ও ঐক্য ফ্রন্টের ৭ দফা জনদাবী পূরন হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে কৌশল প্রনয়ন করবো। যেহেতু তৃণমূল আমার রাজনিতির প্রাণ, সেহেতু তৃণমূলের জনদাবী পূরনের প্রত্যয়ে কোতোয়ালী আসনে আমার নির্বাচন করার প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে ” এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্য প্রার্থীরা হলেন মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, কেন্দ্রীয় শামসুল আলম। প্রার্থীর আধিক্য থাকলে ও তৃণমূলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা, দলের প্রতি ত্যাগ, তিতীক্ষার কারণে ডাঃ শাহাদাতের মনোনয়ন এক প্রকার নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন দলের হাইকমান্ডের সাথে সংশ্লিষ্ঠরা। শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ড চট্রগ্রাম বিএনপির তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের অন্তরের আকুতিকে প্রাধান্য দিবে নাকি দলের অভ্যন্তরে’র স্বার্থেন্নেষী মহল দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আত্মঘাতি স্বিদ্বান্ত নিবে তা দেখার প্রতিক্ষায় চট্টগ্রামবাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here