আদালতের রায়ে হামলা,ভাংচুর, লুটপাট, গৃহবধুসহ আহত ৩

89

শাহজাহান আলী মনন॥ নীলফামারীর সৈয়দপুরে আদালতের রায় পেয়ে সে অনুযায়ী ডিক্রির মাধ্যমে জমির স্বত্বাধিকারী হওয়া সত্বেও প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন একটি অসহায় পরিবার। আদালতের রায় মেনে না নিয়ে গায়ের জোড়ে জমি দখলে নিতে সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র-স্বস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ঘর ভাঙ্গচুর করাসহ মালামাল লুট করার ঘটনা ঘটেছে। এসময় বাধা দেয়ায় কুড়ালের আঘাতে গৃহবধুর হাতের পাঞ্জা কেটে যাওয়াসহ ৩ জন গুরুত্বরভাবে আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশকে অভিযোগ করা হলেও প্রায় ১৫দিন পেরিয়ে গেলেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেয়ায় প্রতিপক্ষ আরও বেপরোয়া হয়ে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি প্রদানসহ এলাকা থেকে উচ্ছেদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ফলে ওই পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং অন্যায়ের বিচার না পেয়ে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। তারা এ ব্যাপারে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষসহ মিডিয়া ও সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের সহায়তা কামনা করেছেন। গত ১০ মে এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা তাদের অসহায়ত্বের আকুতি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের বিশ্বাষকান্দর ডাঙ্গাপাড়ার মৃত. জাকারিয়া শাহ্ এর ছেলে মো: আশরাফ আলী তাদের উপর হামলার ভিডিও প্রদর্শন করে জানান, আমার মা আছিয়া খাতুনের স্বত্ব দখলীয় বিত্ত যার এস এ খতিয়ান নং- ৬৪৩, দাগ নং- ৮০০ এ ৩০ শতকের মধ্যে সোয়া ৭ শতক জমিতে নিজের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিগত ২০০৭ সালে বাটোয়ারা মোকদ্দমা দায়ের করি। মোকদ্দমাটি বিচারে গত ২০১০ সালে ১১ এপ্রিল তারিখে আমাদের পক্ষে রায় প্রদান করে বিজ্ঞ আদালত। সে রায়ের প্রেক্ষিতে ১৮ এপ্রিল ডিক্রি হয় এবং ডিক্রি অনুযায়ী মোকদ্দমা অন্য-ডিং-০৪/১৬ আদালতের নির্দেশে পুলিশ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বর্ণিত বিত্তসহ অন্যান্য বিত্তে দখলাদী বুঝিয়া পাই এবং সেই জমিতে বাড়ি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছি। বাটোয়ারা মোকদ্দমার প্রেক্ষিতে ইতোপূর্বে ওই বিত্তে ভোগদখলকারীদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তখন থেকে তারা আমার ও আমার পরিবারের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আছে যে কোন সময় তারা এর প্রতিশোধ নিবে মর্মে হুমকি দিয়ে থাকে। এ কারণে আদালতের রায় তারা মানেনা মর্মে প্রায়ই ওই বিত্ত থেকে আমাদের উচ্ছেদ করার হুমকি দিয়ে আসছে। এমতাবস্থায় গত ১৭ মার্চ ২০১৯ তারিখে হঠাৎ করে প্রতিপক্ষ মৃত. আহাম্মদ আলী ওরফে হুলু মামুদের ছেলে ইছাহাক (৩৭), ওবায়দুর (৪৬), আজিজার রহমান (৫০), শহীদুল (৪৩), আজিজারের ছেলে হারুনুর রশীদ (১৭), শহীদুলের ছেলে আবু তাহের (১৬) ও স্ত্রী তসলিমা (২৫), সুলতানের স্ত্রী জিনু আরা (৩৮), সেনা সদস্য মোস্তফা কামাল ও তার স্ত্রী আদিনা (২৩) আমাদের উপর হামলা করে প্রচন্ড মার ডাং করে ঘরে ঢুকে টাকা পয়সা লুট-পাট করলে তাদের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার করি। জি আর ৪৬/১৯ মোকদ্দমাটি আদালতে বিচারাধীন আছে। এই মোকদ্দমার আসামী সেনা সদস্য মোস্তফা ব্যতিত অন্যরা গত ২৫ মার্চ আদালত হতে জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি এসে পরের দিন শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে বিনা প্ররোচনায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা-হাঙ্গামার পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে কুড়াল, দা, বাইশ, লাঠি নিয়ে তফশীল বর্ণিত বিত্তে অনুপ্রবেশ করে সেখানে আমার তোলা টিনের ঘরের বেড়ার টিন ভেঙ্গে চুরমার করে মাটিতে ফেলে দেয় এবং ঘরে থাকা খাটসহ অন্যান্য আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দেয়ায় ইছহাকের হুকুমে ওবায়দুর তার হাতের কুড়াল দিয়ে আমার স্ত্রী মোফছেনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সজোরে আঘাত করে। সে আঘাত ঠেকাতে গিয়ে মোফছেনার বা হাতের তালুর অর্ধেক অংশ হাড়সহ কেঁটে গিয়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম হয়। এসময় ইছাহাক তার হাতের লাঠি দিয়ে আঘাত করলে আমার স্ত্রীর মাথা ফেটে যায়। সে সাথে আজিজার ও শহিদুলও বেধড়ক মারপিট শুরু করে। হারুনুর রশিদ ও আবু তাহেরও এসময় এলোপাথারী মার ডাং করে এবং এক পর্যায়ে তারা আমার স্ত্রীর মাথার চুল ধরে টেনে হিচড়ে মাটিতে ফেলে দেয়।

এ পরিস্থিতিতে আশে পাশের লোকজন আমাদের আর্তচিৎকার শুনে এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা ঘরের মালামাল নিয়ে যায় এবং যাওয়ার সময় ঘরের পাশের শীম গাছের মাচা ভেঙ্গে ফেলে। এসময় তারা সকলের উপস্থিতিতেই আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিতে থাকে। যা আমার ভাতিজারা মোবাইলে ভিডিও করে রেখেছেন। পরে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লুটকৃত মালামালের কিছু হামলাকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করে। কিন্তু এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ করা সত্বেও পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এতে প্রতিপক্ষরা আরও বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং দিন রাত আমাদের নানা ভাবে হয়রানী করাসহ প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এতে আমরা জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই তারা এ ঘটনার আশু বিচার দাবি করে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here