আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতিকেই পেটালেন সাবেক বিএনপি নেতা

126

কালজয়ী রিপোর্ট: বগুড়ার শাজাহানপুরে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে পিটিয়েছেন সাবেক বিএনপি নেতা। বুধবার বিকেলে শাজাহানপুর উপজেলার গোহাইল ইসলামীয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে প্রকাশ্যে এই ঘটনা ঘটে। হামলা থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ ইউসুব আলী (৬০) এবং অন্য নেতাকর্মীদের উদ্ধার করে পুলিশ। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি গোহাইল ইসলামীয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুলের বিরুদ্ধে ওই প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আফজাল হোসেন জেলা শিক্ষা অফিসে একটি অভিযোগ করেন। বুধবার ওই অভিযোগের তদন্তের দিন ছিল। বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আমান উদ্দিন মন্ডল অভিযোগটি তদন্ত করতে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যান। তারা জানান, সেসময় শিক্ষকদের অনুরোধে স্কুলে যান গোহাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুব আলী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেনসহ আরো কয়েকজন নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে ফরহাদ হোসেন ছিলেন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগের সাক্ষী। তাকে দেখে ক্ষিপ্ত হন অধ্যক্ষ মোতাহার হোসেন মুকুল। তিনি মোবাইল ফোনে বিষয়টি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক বিএনপি নেতা আলী আতোয়ার তালুকদার ফজুকে অবহিত করেন। তারা আরো জানান, খবর পেয়ে চেয়ারম্যান তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে ফরহাদের সঙ্গে বাগ্বিত-ায় জড়িয়ে পড়েন। সেসময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তাদের থামাতে গেলে চেয়ারম্যান ফজু ও তার সহযোগীরা তাদের মারধর করেন। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত শাজাহানপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সুশান্ত কুমার বলেন, পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদসহ অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, ‘পুলিশের সামনে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। আমি বৃদ্ধ মানুষ, তারপরও চেয়ারম্যান ও তার লোকজন আমার গায়ে হাত তুলেছে। পুলিশ ঘটনা শেষে আমাদের উদ্ধার করে। ঘটনার বিষয়টি জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ইউপি চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু এ প্রতিবেদক-কে বলেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ তদন্ত করতে এলে স্থানীয় কিছু লোকজন সেখানে ঝামেলা সৃষ্টি করে। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে তিনি সেখানে যান। তিনি তদন্তকালে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বাইরের লোকজনকে চলে যেতে বললে তারা অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। তবে তিনি নিজে কাউকে মারধর করেননি বলে দাবি করেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান। শাজাহানপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানান, এ ঘটনায় কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইউপি চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু দীর্ঘদিন গোহাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনের সময় তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এরপর নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হন।