বেড়া-সাঁথিয়ায় লোকসান দিয়ে বোরো ধান বিক্রি করছে চাষিরা

144
Exif_JPEG_420

অলোক কুমার আচার্য: বোরো ধানের দাম খরচের তুলনায় অনেক কম পাবনার বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার কৃষকের মুখের হাঁসি ম্লান হয়েছে। গোলা ভরা ধান থাকলেও বুক ভরা বিষাদে ছেয়ে গেছে তাদের। সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, সোনালি ধানের শিষ বাতাসে দোলা খাচ্ছে। যতদুর চোখ যায় শুধু ধানের ক্ষেত। এ অঞ্চলে চলছে আগাম জাতের ধান কাটা ও মাড়াই। বেড়া-সাঁথিয়া কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দুই উপজেলায় এবার প্রায় ১৫ হাজার ৪ শত ৩৩ হেক্টর জমিতে বোরোর ধানের আবাদ হয়েছে। হেক্টর প্রতি ধানের ফলন চার দশমিক পাঁচ ও চাউলের ফলন দুই দশমিক সাত মেট্রিক টন ধরা হয়েছে। সে হিসেবে এবছর দুই উপজেলায়, ৬৯ হাজার ৪ শত ৪৮.৫ মেট্রিক টন ধান ও ৪১ হাজার ৬ শত ৬৯.১ মেট্রিক টন চাউল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দুই-এক সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা ও মাড়াই পুরোদমে শুরু হবে। এ বছর দুই উপজেলাতে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ অঞ্চলের চতুরহাট, কাশিনাথপুর বাধেরহহাট,কাজিরহহাট,সাঁথিয়া ধুলাউড়ি, বোয়াইলমারিসহ বিভিন্ন হাটে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন কয়েকজন ব্যাপারির সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে হাটগুলোতে প্রকারভেদে প্রতিমণ মোটা জাতের বোরো ধান ৫০০ টাকা ও বোরো চিকন ধান ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে হাটে ধানের চাহিদা নেই, ক্রেতা কম। ধানের বাজার দর নিয়ন্ত্রন করছে ফড়িয়া ও দালালেরা। ক্রেতার অভাবে চাষিরা কম দামে ফড়িয়া ও দালালদের কাছে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমান বাজার দরে ধান বিক্রি করে চাষিদের প্রতিমণ ধানে প্রায় ১০০ থেকে ২০০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। পুরোদমে কাটা ও মাড়াই শুরু হলে ধানের দাম আরো কমতে পারে এ আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা ধান কিনছে না। নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের দিন কাটছে অর্ধাহারে-অনাহারে। এদিকে ধানের দাম কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে। বেড়া উপজেলার নলভাঙ্গা গ্রামের কৃষক সবুজ নিজের জমিতে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা মজুরি দিয়ে শ্রমিক খাটিয়ে বোরো ধান আবাদ করেন। উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে তিনি হিসাব করে দেখেন তার লাভ তো দুরের কথা, খরচই উঠছে না।

সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়ি গ্রামের কৃষক আজিজ মোল্লা বলেন, বোরো ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকরা মহাজনের ঋণ শোধ করতে পারছেন না। এতে তারা ঋণের জালে আটকা পড়ছেন। কৃষক ধান হাটে নিয়ে পানির দামে বিক্রি করছেন। বেড়া সিঅ্যান্ডবি চতুরহাটে গত মঙ্গলবার ধান বিক্রি করতে আসা বেড়া উপজেলার হরিরামপুর গ্রামের সমভ্রান্ত কৃষক হিসেবে পরিচিত আব্দুল মান্নান ১০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমির সেচ খরচ তিন হাজার টাকা, হালচাষ-রোপণে কৃষাণ তিন হাজার টাকা, সার-বীজ-নিড়ানি-কীটনাশক দুই হাজার ৫০০ টাকা, কাটা মাড়াই চার হাজার টাকা এবং পরিবহন বাবদ ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে ১৩ হাজার টাকা। তিনি প্রতি বিঘাতে ধান পেয়েছেন ১৮ মন। যার বর্তমান বাজার মূল্য সাড়ে নয় হাজার থেকে সাড়ে ১১ হাজার টাকা। অথচ উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৩ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে তার লোকসান হয়েছে প্রায় দুই হাজার টাকা।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের (খামারবাড়ী) উপ-পরিচালক আজাহার আলী জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি মওসুমে বোরো ধানের উৎপাদন ভাল হয়েছে। তবে দাম আরেকটু বেশি থাকলে কৃষকের জন্য ভালো হত।