নরসিংদীর পলাশ উপজেলার শতাধিক স্পটে মাদকের জমজমাট বানিজ্য

273
নাজমুল হাসান জনী: দেশব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযান চললেও মাদকে ভাসছে নরসিংদীর পলাশ উপজেলা। গ্রাম থেকে শুরু করে ঘোড়াশাল শিল্প এলাকার যেখানে-সেখানে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, মদ, বিয়ার ও গাঁজার মতো মাদকদ্রব্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কখনও আইন-শৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে, আবার কখনও তাদের সামনেই বিভিন্ন জায়গায় চলছে এসব মাদক বিক্রি। উপজেলার বিভিন্ন অলি-গলিতে দেখা যায় মাদকসেবীদের মাতলামি। এসব মাদকসেবীদের মধ্যে বেশিরভাগই স্কুল কলেজের উঠতি বয়সের তরুণ। মাদকসেবীরা মাদকের অর্থ যোগাড় করতে প্রায়ই চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটাচ্ছে।
স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে পলাশ উপজেলা জুড়ে শতাধিক মাদকের স্পট রয়েছে। এরমধ্যে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার পলাশ বাজার গুদারাঘাট, জনতা জুটমিল গেইট, জামালপুর গুদারাঘাট, পৌর এলাকার ঘোড়াশাল চরপাড়া, মিয়া পাড়া, ডাঙ্গা ইউনিয়নের খিলপাড়া, ভিরিন্দা বাজার, ডাঙ্গা বাজার, জিনারদী ইউনিয়নের রেল স্টেশন, উত্তর চন্দন, গজারিয়া ইউনিয়নের পারুলিয়া মোড়, নোয়াকান্দা বাজার, গজারিয়া বাজার, শিবপুর-পলাশ থানা সীমান্ত এলাকার তালতলী বাজার, ঝালোকাটা বাজার, চরসিন্দুর ইউনিয়নের কাউয়াদী, বালিয়ার মোড় ও চরসিন্দুর বাজারসহ বেশ কয়েকটি মাদকের স্পট উল্লেখযোগ্য।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গজারিয়া ইউনিয়নে মাদকের এসব স্পট নিয়ন্ত্রণ করছে হাত কাটা আল-আমিন, কামাল হোসেন, মুনছুর আলম, খোকন মিয়া, সাব্বির হোসেন, টিটু নামে কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ি। তাদের প্রায় সবার নামেই পলাশ থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া চরসিন্দুর ইউনিয়নের কাউয়াদী গ্রামের ইয়াবা কাজল, দক্ষিণ দেওড়া গ্রামে ইয়াবা ব্যবসায়ি আমিনুল মিয়াসহ চরসিন্দুর ইউনিয়নে চোলাই মদ বিক্রির সাথে জড়িত প্রায় ১৫ জন।  সম্প্রতি প্রায় ১ হাজার লিটার চোলাই মদসহ নরসিংদী সদর (সার্কেল) পুলিশের নেতৃত্বে চারজনকে আটক করলেও বর্তমানে আবারও মদের ব্যবসা জমজমাট ওই ইউনিয়নে। এছাড়া ডাঙ্গা ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর, আবু তাহের, রুবেল মিয়া, ঘোড়াশাল পৌর এলাকার টুটুল মিয়া, জালাল উদ্দিন, আমিন মিয়া ও জিনারদী ইউনিয়নের উত্তর চন্দন গ্রামের ভিকচাঁন মিয়াসহ কয়েকজন মাদকের এসব স্পটগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব স্পটে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে মাদকদ্রব্য বিক্রি হয়।
সচেতন এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক উদ্ধার ও ব্যবসায়ি গ্রেফতারে থানা পুলিশের বিশেষ কোনো তৎপরতা নেই। মাদকসেবীরাই এখন বাড়তি আয়ের আশায় ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। যাদের অনেকেই পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাদক ব্যবসায়ি জানান, থানা পুলিশের কিছু কর্মকর্তা তাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নেন। তাই তাদের এ ব্যবসা চালাতে খুব একটা সমস্যা হয় না।
গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদুরুদজ্জামান (বদু) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইদানিং গজারিয়া ইউনিয়নজুড়ে মাদকের ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু পুলিশকে মাদকের বিষয়টি বারবার অবগত করার পরও মাদক নির্মূলে পুলিশের তেমন কোনো তৎপরতা নেই।
গজারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ইফি জানান, মাদক বিক্রি হচ্ছে এমন তথ্য পুলিশকে দিলেও তারা অজানা কারণে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে আসে না। তাই দিন দিন এই এলাকায় মাদকের ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। মাদকের বিষয়ে একেবারেই অজানা বলে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন মোল্লা জানান, পলাশে মাদক বিক্রি হচ্ছে এমন সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।