ঢাবি ছাত্র তানভীরের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি

103

ঢাবি প্রতিনিধি: সেনা সদস্যের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে আটক হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র তানভীর আহমেদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দের  ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ(ডাকসু) এজিএস ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেন, শহীদুল্লাহ্ হল সংসদের ভিপি সৌরভ, সামছুন নাহার হলের ভিপি তাসনিম আফরোজ ইমি, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এসময় ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোনো বিশেষ বাহিনীর কাছে মাথা নত করবো না। ২০০৭ সালে ১/১১ এর সময় যেরকম আমরা জলপাই রঙের বিশেষ বাহিনীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ও অবৈধ ক্ষমতার চর্চাকে হটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছি তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকল অনৈতিকতার বিরুদ্ধে আবারো গর্জে উঠবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের যে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একটি বিশেষ বাহিনীর এমন ছুড়ি ঘুরানোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে ব্যবস্থা নিতে হবে’।

তিনি আরো বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে তার বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকবো এবং অনতিবিলম্ব তানভীরকে নিঃশর্ত মুক্তি ও সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্লিপ্ততাকে ধিক্কার জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। একজন শিক্ষার্থীকে শাহবাগ থানা থেকে নিয়ে যাবে আর প্রশাসন নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবে । আমরা সেই শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে গিয়েছি তখন তারা টালবাহানা করেছে এবং বলেছে আইনি প্রক্রিয়ায় তারা সহায়তা করবে। এমন প্রশাসনের প্রয়োজন নেই আমাদের।

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেন তানভীরের উপর দেয়া সেনাবাহিনীর মামলাগুলোকে হাস্যকর উল্লেখ করে বলেন, তানভীর ভাইকে রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেয়া, সেনাবাহিনীর গায়ে হাত তোলাসহ যে মামলা দেয়া হয়েছে সেগুলো হাস্যকর। একটি বিশেষ বাহিনী এত রাতে সেখানে কোন রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত ছিল আমার তা বুঝে আসে না। আর যে শিক্ষার্থীর পরদিন বিসিএসের মত একটি পরীক্ষা তার তো চিন্তায় ঘুম আসার কথা নয় সেখানে এমন অস্ত্রধারী রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ বাহিনীর গায়ে হাত তুলবে এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়।

তিনি বলেন অার ও বলেন , ক্যাম্পাস থেকে শাহবাগে যেতে সর্বোচ্চ ২০ মিনিট লাগে। কিন্তু প্রক্টর সেখানে যাননি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতির কারণে তানভীর ভাই বিসিএস পরীক্ষা দিতে পারেনি। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, তানভীর মুক্তি না পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসবে।

মানবন্ধনে শিক্ষার্থীরা ঢাবি প্রক্টরিয়াল টিমের সমালোচনা করে বলেন, তুচ্ছ ঘটনায়ও দেখা যায় প্রক্টরিয়াল টিম ছুটে যান। কিন্তু তানভীরের ঘটনায় তাদের কোন তৎপরতা চোখে পড়েনি। এমনকি প্রক্টর নিজেও সেখানে গিয়ে কোন উদ্যোগ নেননি।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা তানভীরের দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে নামারও হুশিয়ারি দেন তারা। এছাড়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির ও দাবি জানান।

প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় মোটরসাইকেল চালিয়ে আত্নীয়ের বাড়ি যাওয়ার সময় সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে।এর জের ধরে সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার জাসেদুল ইসলাম ঢাবি শিক্ষার্থী তানভীরুল ও তার মামা ফেরদৌসুল হককে শাহবাগ থানায় নিয়ে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।