সাতক্ষীরায় পঞ্চম শ্রেনির ছাত্রীকে যৌন হয়রানি

56

মোঃ ফারুক হোসেন: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের ৭৬নং সন্ন্যাসীর চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক মাস আগে এ ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, এসএমসি’র দু’একজন সদস্য ও স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা পরস্পর যোগসাজশে যৌন হয়রানির বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যৌন হয়রানির শিকার ছাত্রী এখন আর স্কুলে যেতে পারছে না। শিক্ষকের দ্বারা শিশু শিক্ষার্থী’র যৌন হয়রানির আলোচিত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ সন্ন্যাসীর চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উপজেলার পূর্বনলতা গ্রামের মৃত ইমান আলী মোল্যার ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩৯) পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। ওই ছাত্রী ধাক্কা দিয়ে কৌশলে লম্পট শিক্ষকের কবল থেকে নিজেকে রক্ষা করে বিষয়টি সহপাঠীদের জানায়। এরপর বাড়িতে যেয়ে অভিভাবকদের জানালে ওই ছাত্রীর মা তাৎক্ষণিক ভাবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শিবানী রাণী স্বর্ণকার ও এসএমসি’র সভাপতি মুসা করিমকে অবহিত করলে তারা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে গত ১০ এপ্রিল ওই ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বিদ্যালয়ে মা সমাবেশে যেয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগের তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পান এবং তিনি বিতর্কিত শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে এক সপ্তাহের মধ্যে অন্যত্র বদলী করার আশ্বাস দেন। নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরও তাকে অন্যত্র বদলী না করায় গত ২০ এপ্রিল ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাকে বদলী করা তো দুরের কথা উল্টো ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নানা ভাবে হুমকি প্রদান করছে লম্পট শিক্ষক ও তার কতিপয় সহযোগী। এছাড়া লম্পট শিক্ষককে রক্ষায় কোমর বেধে মাঠে নেমেছেন নলতা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি চিহিৃত ভূমিদস্যু আব্দুর রহিম পাড় (৪২)। তিনি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য না হয়েও প্রতিনিয়ত স্কুলে উপস্থিত হয়ে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের ভয়ভীতি প্রদর্শণ এবং শহিদুল ইসলামকে রক্ষা করতে ম্যানেজিং কমিটির উপর প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে অভিভাবকরাও অনড়। তাদের দাবি, লম্পট শিক্ষককে স্কুল থেকে বিতাড়িত না করলে ছাত্রীরা নিরাপদে পড়াশুনা করতে পারবে না। কারণ হিসেবে তারা জানান, লম্পট শিক্ষক শহিদুল ইসলামের হাতে ইতোপূর্বে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে বহু শিক্ষার্থী। ছাত্রীদের যৌন হয়রানির কারণে শহিদুল ইসলাম মৌতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিবাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাজলা প্রাথমিক বিদ্যালয়, নলতা প্রাথমিক বিদ্যালয়, শুইলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সর্বশেষ সেন্ট্রাল সেহারা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আন্দোলনের মুখে বিতাড়িত হয়েছেন। অজ্ঞাত কারণে লম্পট এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে শুধুমাত্র অন্য স্কুলে বদলী করে দায় সেরেছেন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এজন্য ওই শিক্ষক একই ধরণের কর্মকান্ড বারবার করে যাচ্ছেন। যৌন হয়রানিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে এধরণের লম্পট শিক্ষককে বারবার বদলী না করে চাকুরি থেকে বিতাড়ন করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। তারা বলেন, সম্প্রতি এই স্কুলের ছাত্রীকে যৌন হয়রানির পর শহিদুল ইসলাম কয়েক দিন ছুটি নেন। বর্তমানে তিনি ট্রেনিংয়ে আছেন বলে জানতে পেরেছি। ট্রেনিং শেষে যদি তিনি আবারও স্কুলে পাঠদান করতে আসেন সেক্ষেত্রে আমরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলসহ আরও কঠোর কমসূচি পালন করতে বাধ্য হবো।অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, যৌন হয়রানির ঘটনাটি সত্য নয়। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল হাকিম বলেন, যৌন হয়রানির শিকার এক ছাত্রীর মায়ের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here