মে দিবস কি আমরা জানুম কইতে, কাম করলে বউবাচ্চার খাওন অইব?

128
মোঃ তাসলিম উদ্দিন:এলোমেলো বাতাস তীব্র গরমেরমধ্যে সরাইল  হাসপাতালের সামনে সি এনজির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন কয়েক জন ধান কাটার শ্রমিক। আমান মিয়া (৪০)। প্রতি দিনকার মতো উপার্জনের জন্য সকাল থেকে  সরাইলের  এ গ্রাম থেকে অন্য গ্রামের ধান জমিতে প্রতিদিনের ধান কাটার কাজে ব্যস্ত।রোদ-বৃষ্টি যেন তাদের গা সওয়া। তাদের মধ্যে আমান মিয়ার জানা নেই মে দিবসের প্রতিপাদ্য বা  শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ইতিহাস। রোদে রাস্তার পাশে শরবত বিক্রিতে ব্যস্তউচালিয়া পাড়ার মোড়ে  শরবত বিক্রি করছেন  ইউছুফ(৪৫)। তাকে মে দিবসের কথা জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলেন, ‘এসব দিবস টিবস পালন কইরা আমার তো কোনো লাভ নাই। মে দিবসে নাকি নিজেগো অধিকার আদায়ের লাইগা শ্রমিকরা প্রাণ দিছিলো। কিন্তু তাতে কি শ্রমিকগর ভাগ্য বদলাইছে? আমগর দু:খ-কষ্টে কেউ তো কখনো আহে না।’ সে তার ভাষায় এ প্রতিবেদক বলেন, মে দিবস কি আমি জানুম কইতে, কাম করলে বউ বাচার খাওন অইব? বুধবার (১পহেলা  মে) সকাল থেকে উপজেলার সদর এলাকা ঘুরে কথা হচ্ছিল বিভিন্ন শ্রেণীর শ্রমিকদের সঙ্গে। এ সময় তাদের সামনে দিয়েই মে দিবসের রালী যাওয়ার সময় সেলিম বলছিলেন, ‘আমরা অইলাম চুক্তি কামলা। কামই আমরার ধর্ম, কামই আমরার জ্ঞান। কাম কইরা খাইতে অইবো,ঘরে মাবাপ ছোট ভুইনদের খাওয়াইতে অইব। এ লাগাই রাস্তা পাশে বালু টানতাছি। কাম শেষ করলেই টেহা দিব, তাড়াতাড়ি বাড়িত যামু। দিবস লইয়া বইয়া থাকলেই হইব মিয়া?’ কথাগুলো বলেই হি হি করে হেসে উঠে সেলিম। তার ভাষায় বলে, আমরা বুঝি পেট চলব কেমনে,  কি করলে পেট চলব। গরীবের কোনো দিবস নাই। সব দিনই সমান।’ কথা শেষ করেই ফের মন দিলেন কাজে।