সিরাজগঞ্জে ৫ মাসে ৬২টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা

98

হুমায়ুন কবির সুমন: সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: আনিসুর রহমান যোগদানের পর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর ভূমিকায় তার নেতৃত্বে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ২৯ এপ্রিল ২০১৯ ইং পর্যন্ত ৬২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় ১৯ লাখ ৫৬ হাজার ৫শ টাকা জরিমানা আদায় ও ৩৮টি বাল্য বিবাহ বন্ধ ও ১১ জনের কারাদন্ড প্রদান করেন।

জানা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় মো: আনিসুর রহমান গত ৩০.১০.২০১৮ইং তারিখে যোগদান করেন। যোগদানের পরপরই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে ব্যস্ত থানায় নভেম্বর মাসে নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করতে পারেননি।

একান্ত সাক্ষাতকারে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: আনিসুর রহমান বলেন, লক্ষ্য করে দেখবেন সদর উপজেলায় ভ্রাম্যমান আদালত একটি বিষয় নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করিনি, সমাজের সমস্যার সর্বদিকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছি।

তিনি ভ্রাম্যমান আদালতের বিবরণী দিয়ে বলেন, গত ৩ ডিসেম্বরে সয়দাবাদে বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ও মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩-এ ৫৪ হাজার ৫’শ টাকা, ৬ ডিসেম্বরে পিপুলবাড়িয়ায় ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষন আইন ২০০৯-এ ১০ হাজার টাকা, ৯ ডিসেম্বরে সয়দাবাদে মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩-এ ২৬ হাজার টাকা, ৯ ডিসেম্বর বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এ ১ লাখ টাকা, ২৫ ডিসেম্বর বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০-এ চর শৈলাবাড়িতে নুরুল ইসলাম ও চর ছোনগাছাতে মো: আব্দুল্লাহকে কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

ডিসেম্বর/১৮ মাসে ৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে মোট ১ লাখ ৯০ হাজার ৫’শ টাকা জরিমানা আদায় এবং ১ জনকে কারাদন্ড প্রদান করেন। নতুন বছরের শুরুতে ২০১৯ সালের ৯ জানুয়ারীতে সয়দাবাদে মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩-এ ৯টি মামলায় ৩২ হাজার ৫’শ টাকা, ১৪ জানুয়ারীতে সয়দাবাদে মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩-এ ৯টি মামলায় ২৪ হাজার টাকা, ১৬ জানুয়ারীতে পানিয়াবাড়িতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এ ১ লাখ টাকা, ২০ জানুয়ারীতে মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩-এ ০৮টি মামলায় ২৩ হাজার টাকা, ২১ জানুয়ারীতে বানিয়াপট্টিতে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০-এ ৩টি মামলায় ১৭ হাজার টাকা, ২৩ জানুয়ারীতে পূর্ব দুপিরপাড়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এ ১ হাজার টাকা, ২৭ জানুয়ারীতে পাঁচ ঠাকুরীতে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এ ২ লাখ টাকা ও ২৯ জানুয়ারীতে সয়দাবাদে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এ ১লাখ টাকা আদায় করা হয়।

জানুয়ারী মাসে ৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫’শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
ফেব্রুয়ারী মাসের ৯ ফেব্রুয়ারীতে শহরের সজীব ঔষুধ ঘরে ৮ হাজার টাকা, ১১ ফেব্রুয়ারীতে মিরপুরের মীরা প্লাস্টিক কারাখানায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এ ২০ হাজার টাকা, ১৩ ফেব্রুয়ারীতে চন্ডিদাসগাঁতীতে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এ ৫০ হাজার টাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারীতে সয়দাবাদে দাবাদে মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩-এ ৫ হাজার টাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারীতে তেলকুপির বৈশাখী ফুড প্রোডাক্টসে ভোক্তার অধিকার ও সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এ ২০ হাজার টাকা ও ১৯ ফেব্রুয়ারীতে রায়পুরে খান ফুডস প্রোডাক্টসে ভোক্তার অধিকার ও সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এ ৪৫ হাজার টাকা, ২০ ফেব্রুয়ারী হোসেনপুর উত্তরপাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২৫ হাজার টাকা, ২১ ফেব্রুয়ারীতে মাহমুদপুরে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে ৬০ হাজার টাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারীতে চন্ডিদাসগাঁতী প্রকাশ্যে জুয়া খেলার অপরাধে ১জনকে জেল এবং ৫ হাজার টাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারীতে বহুলীর নিয়ামতপুরে বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ১জনকে জেল, ২৬ ফেব্রুয়ারীতে চররায়পুরে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণে আইনে পলিথিনের কারখানায় ৫০ হাজার টাকা এবং ২৮ ফেব্রুয়ারীতে হোসেনপুর ও তেতুলিয়া গ্রামে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

ফেব্রুয়ারী মাসে ১৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২টি বাল্য বিবাহ বন্ধ, ২জনকে কারাদন্ড এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। মার্চ মাসের ১ তারিখে বৈদ্যধলডোব পশ্চিমপাড়া বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ৫ হাজার টাকা ৪ মার্চে রামগাঁতীতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ২৫ হাজার টাকা, ৫ মার্চে জানপুর ব্যাংকপাড়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১৫ হাজার টাকা, ৬ মার্চে চন্ডিদাসগাঁতীতে ইভটিজিংয়ের অপরাধে ১জনকে ৩ মাসের কারাদন্ড, ৭ মার্চে তেলকুপিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১৫ হাজার টাকা, ৯ মার্চে হাজী আহম্দে আলী কামিল মাদ্রাসায় অতিরিক্ত ফি আদায়ে ১জনকে কারাদন্ড, ১০ মার্চে ক্ষুদ্র শিয়াকোল, গুপিরপাড়া, জামুয়ায় মোটরযান অধ্যাদেশ আইনে ৬ হাজার টাকা, ১২ মার্চে চন্ডিদাসগাঁতীতে প্রকাশে জুয়া খেলার অপরাধে ৩জনকে কারাদন্ড, ১৩ মার্চে সয়দাবাদে মোটরযান অধ্যাদেশ আইনে ৫৪ হাজার টাকা, ১৫ মার্চে মহিষামুড়া, হরিনারায়নপুর, শালুয়াভিটা, শেকসা আলোদিয়ায় বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে ৪টি বিবাহ বন্ধ ও ৫০ হাজার টাকা, ২১ মার্চে হাট সারটিয়ায় বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে ২টি বাল্য বিবাহ বন্ধ ও ২০হাজার টাকা, ২২ মার্চে সয়দাবাদে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে বাল্য বিবাহ বন্ধ ও ১০ হাজার টাকা, ২৩ মার্চে হোসেনপুর উত্তরে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে বাল্য বিবাহ বন্ধ ও ১৪ হাজার, ২৪ মার্চে কড্ডা কৃষ্ণপুরে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে ২টি বাল্য বিবাহ বন্ধ ও ২০ হাজার টাকা, ২৭ মার্চে কান্দাপাড়ায় প্রকাশে জয়া খেলা অপরাধে ২জনকে কারাদন্ড, ২৮ মার্চে বাগবাটী পশ্চিমপাড়ায় বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে ৩টি বাল্য বিবাহ বন্ধ ও ৫০ হাজার টাকা, ২৯ মার্চে সয়দাবাদে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে ৩টি বাল্য বিবাহ বন্ধ ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

মার্চ মাসে ১৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে মোট ৩ লাখ ১৪ হাজার টাকা ও ৮জনকে কারাদন্ড ও ১৭টি বাল্য বিবাহ বন্ধ করেন। ০১ এপ্রিলে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে চাঁদপুরে ৫ হাজার টাকা, ৪ এপ্রিলে মৌসুমে হলের পাশে ও বড় বাজারে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৫ হাজার, ০৫ এপ্রিলে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে কান্দাপাড়া, ডুমুর গোলামীতে ২টি বাল্য বিবাহ বন্ধ ও ২০ হাজার টাকা, ৭ এপ্রিলে বাঐতারায় পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩৫ হাজার টাকা, ৮ এপ্রিলে কালিয়াহরিপুরে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে ১৫ হাজার টাকা, ১১ এপ্রিলে পিপুলবাড়িয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৫ হাজার টাকা, ১২ এপ্রিলে মালিগাঁতীতে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে বাল্য বিবাহ বন্ধ ও ১০ হাজার টাকা, ১৫ এপ্রিলে ধানবান্ধিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইনে ১০ হাজার, ১৬ এপ্রিলে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে ২টা বাল্য বিবাহ বন্ধ ও ১০ হাজার টাকা, ১৭ এপ্রিলে জাটকা সংরক্ষণে ৫ হাজার মিটার জাল জব্দ, ১৯ এপ্রিলে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে ২’টি বাল্য বিবাহ বন্ধ ও ১৫ হাজার টাকা, ২০ এপ্রিলে যমুনায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এ ১ লাখ টাকা ও মতি সাহেবের ঘাটে বালু জব্দ ও পৌরসভার জায়গা বাজার ষ্টেশনে অবৈধ উচ্ছেদ ও ৪ হাজার টাকা জরিমানা, ২২ এপ্রিলে ২টি বাল্য বিবাহ বন্ধ ও ১০ হাজার টাকা এবং ২৫ এপ্রিলে বেড়াবাড়ি, তেতুলিয়া, কোবদাসপাড়া ও মালসাপাড়া ৬টি বাল্য বিবাহ বন্ধ ও ৬০ হাজার টাকা, ২৮ এপ্রিলে বাগবাটীতে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে ২টি বাল্য বিবাহ বন্ধ ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এপ্রিল মাসে ১৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে মোট ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা ১৯টি বাল্য বিবাহ বন্ধ করেন। এছাড়াও কোর্ট চত্বর ও কান্দাপাড়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন।