শেষ দিনে জমে উঠেছে”সরাইলের ফইরহা বান্নী”

41
মোঃ তাসলিম উদ্দিন: দু-দিনব্যাপী শুরু হওয়া ফইরহা বান্নী  রোববার (২৮ এপ্রিল) শেষ হচ্ছে। আর শেষ দিনে জমে উঠেছে এ সরাইলের ঐতিহ্যবাহি ফইরহা বান্নী।সরাইলের ফইরহা বান্নীর কথা ইতিহাসগণদের সংগ্রহ থেকে জানা যায় , সৈয়দ গোলাম আলী শাহ্ (রহঃ) নামের একজন মুসলিম ফকির তৎকালীন সরাইল পরগণায় এসেছিলেন ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে।  আলীনগর গ্রামের  বটতলায় আসন গাড়েন। এই আসনের নাম হয় ফকির তক্কা। সৈয়দ গোলাম আলী শাহ্ (রহঃ) এই অঞ্চলে বসবাসরত সনাতনধর্মের লোকদের কাছে কোন এক সন্ধ্যায় আগুন চেয়েছিলেন। সনাতনীগণ ওনাকে আগুন দেয়নি। তখন এই মুসলিম ফকির গাছের পাতা ছিঁড়ে তার উপর ফুঁদেন   পাতায়  আগুন জ্বলে উঠে। এই দৃশ্য দেখে তখন উপস্থিত সনাতন ধর্মের লোকজন ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে। আর তখন থেকে ফকিরের আরেকটি নাম হয়ে যায় আগুইন্না সৈয়দ,  যা  লোকমুখে প্রচলিত। সৈয়দ গোলাম আলী শাহ্ (রহঃ) এরপর প্রতি বছর এই ফকির তক্কায় নানা আয়োজন, অনুষ্ঠান করতেন। যার নাম দিয়েছিলেন “লবর”। লবর শব্দটি আরবী “লহবর” শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ হচ্ছে-  প্রদর্শন, প্রকাশ, খোলামেলা, মেলে ধরা। আর এভাবেই মুসলিম ফকির সৈয়দ গোলাম আলী শাহ্ (রহঃ) বা আগুইন্না সৈয়দ সরাইল ফকির তক্কায় লবর বা ফইরহা বান্নি প্রবর্তন করেন। এ থেকে যুগ যুগ ধরে চলে আসা সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে এই মেলা। তারই ধারাবাহিকতায় শত বছর ধরে সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ‘ফইরহা বান্নী বা লবর। এ মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। মেলায় থাকে ছোট-বড়  প্রচুর স্টল, বিভিন্ন ধরনের খেলনা, কসমেটিকস, খাবারের দোকান। ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় ব্যবসা করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন ব্যবসায়ীরা।  বৈশাখ (সনাতন পঞ্জিকা অনুসারে) সরাইলের সদর ইউনিয়নের আলীনগর বটতলায় আয়োজন করা হয় এ মেলার।  দুদিনে সরাইলসহ আশপাশের অন্তত ৩০টি গ্রামের লাখো মানুষের সমাগম ঘটে এই মেলায়। মেলায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৩ শতাধিক দোকান বসেছে। এই মেলা সরাইল উপজেলার মধ্য ঐতিহ্যবাহী মেলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here