আমতলীতে স্ত্রীকে কুপিয়ে আহত করেছে স্বামী 

125

বরগুনা সংবাদদাতাবরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের বেতমোর গ্রামের দু’সন্তানের মা শেফালী বেগমকে স্বামী দুলাল তালুকদার কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। আহত শেফালীকে শনিবার স্বজনরা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার গভীর রাতে। পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, ১৯৯৬ সালে উপজেলার আংগুলকাটা গ্রামের আফসের মৃধার মেয়ে শেফালীকে বেতমোর গ্রামের মেনাজ তালুকদারের ছেলে দুলাল তালুকদারের সাথে বিয়ে দেয়। বিয়ের সময় সাংসারিক প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দেয় জামাতা দুলালকে। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন অযুহাতে শেফালীকে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করে আসছে সে। ঘটনার দিন শুক্রবার রাতে স্ত্রী শেফালী ও ছেলে রহমাতুল্লাকে পানের বরজে যেতে বলে। স্ত্রী শেফালী পানের বরজে গেলেও ছেলে রহমাতুল্লাহ যায়নি। ওই দিন রাতে স্বামী দুলাল তালুকদার বাড়ী ফিরে ছেলে পানের বরজে না যাওয়ার কারন জানতে চায় স্ত্রীর কাছে।

এনিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় দুলাল তালুকদার ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে স্ত্রী শেফালীকে গুরুতর জখম করে। খবর পেয়ে শনিবার সকালে শেফালীর স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আলহাজ্ব মোঃ হারুন অর রশিদ বলেন, আহত শেফালীর বাম পায়ের নলা ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং সারা শরীরে ফোলা জখমের চিহৃ রয়েছে।

আহত শেফালী বলেন, বিয়ের ২৩ বছরে তুচ্ছ ঘটনায় শতাধিক বার মারধর করেছে স্বামী। দুটি সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে স্বামীর সংসার করি। কিন্তু এখন আর পারছি না। তিনি আরো বলেন, শুক্রবার রাতে ছেলে পানের বরজে যায়নি এই কারনে আমাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে।

এ বিষয়ে স্বামী দুলাল তালুকদারের সাথে মুঠোফোনে (০১৭০৫১১৫৯২১) যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। আমতলী থানার ওসি মোঃ আবুল বাশার বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।