বরগুনার আমতলীতে বিশেষ ভিজিএফ’র চাল পাইনি জেলেরা

134

সাফায়েত আল মামুন: বরগুনার আমতলী উপজেলায় জেলেদের হাল নাগাদ তালিকা প্রস্তুত না হওয়ায় আড়াই মাস ধরে মা ইলিশ আহরনে বিরত থাকা জেলেরা বিশেষ ভিজিএফ’র চাল পায়নি। এতে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানববতার জীবন যাপন করছে। দ্রুত চাল বিতরনের দাবী জানিয়েছেন জেলেরা।

আমতলী উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম গেল বছর নভেম্বর মাসে শুরু হয়। শেষ হবে এ বছর ৩০ জুন। এ ৮ মাস মা ইলিশ আহরনে বিরত থাকা জেলেদের বিশেষ ভিজিএফ সহায়তা দিচ্ছেন সরকার। ফেব্রুয়ারী থেকে মে মাস পর্যন্ত এ চার মাস শুধু ইলিশ মাছ ধরা জেলেদের এ সহায়তা দেয়া হবে। প্রতি মাসে জেলেরা ৪০ কেজি করে চাল পাবেন। উপজেলায় ৭ হাজার ১’শ ১০ জন জেলে রয়েছে। এর মধ্যে গুলিশাখালী, চাওড়া, আমতলী সদর, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন ও আমতলী পৌরসভার ইলিশ মাছ ধরা ১ হাজার ৫’শ ৭৩ জন জেলেকে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক হাল নাগাদ জেলেদের তালিকা প্রস্তুত পূর্বক চাল বিতরনের নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশ মোতাবেক আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিউটন বাইন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলমকে হাল নাগাত তালিকা প্রস্তুত করে জমা দেয়ার চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু গত আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও উপজেলা মৎস্য অফিস হাল নাগাদ জেলেদের তালিকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে জমা দেয়নি।

এদিকে উপজেলা মৎস্য অফিস গুলিশাখালী, চাওড়া, আমতলী সদর, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন ও আমতলী পৌরসভাকে জেলেদের হাল নাগাদ তালিকা প্রস্তুত করে জমা দেয়ার চিঠি দেয়। কিন্তু তারা তালিকা প্রস্তুত করে জমা দিতে বিলম্ব করেছে বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা। চারটি ইউনিয়ন পরিষদ তালিকা দিলেও আমতলী পৌরসভা এখনো তালিকা জমা দেয়নি। তালিকা প্রস্তুত না হওয়ায় গত আড়াই মাস ধরে জেলেরা বিশেষ ভিজিএফ’র চাল পায়নি। চাল না পাওয়ায় তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতন জীবন যাপন করছে। দ্রুত চাল বিতরনের দাবী জানিয়েছেন জেলেরা।

আমতলী ০৫নং ওয়ার্ডের গ্রামের জেলে মোঃ খলিলুর রহমান জানান, গত ছয় মাস ধরে পায়রা নদীতে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। এ উপলক্ষে সরকার আমাদের চার মাস বিশেষ ভিজিএফ চাল দেয়ার কথা থাকলেও কোন জেলে এখনোও চাল পাইনি। এতে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে আছি। দ্রত চাল বিতরনের দাবী জানান তিনি।

গুলিশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাড. নুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা মৎস্য অফিস চাওয়া মাত্রই হাল নাগাদ জেলেদের তালিকা মৎস্য অফিসে জমা দিয়েছি কিন্তু আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও জেলেরা বিশেষ ভিজিএফ’র চাল পায়নি।

আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম বলেন, চারটি ইউনিয়নের হাল নাগাদ তালিকা পেয়েছি। পৌরসভার তালিকা পাইনি। সকল তালিকা পেলে দ্রুত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে জমা দেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নিউটন বাইন বলেন, জেলেদের তালিকা না পাওয়ায় চালের ছাড়পত্র দিতে পারছি না। তালিকা পেলে দ্রুত চালের ছাড়পত্র দেয়া হবে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন, হাল নাগাদ তালিকা পেলেই দ্রুত জেলেদের মাঝে চাল বিতরন করা হবে।