হাজার বছরেও বঙ্গবন্ধুর মতো কোনো নেতা আবির্ভূত হয় নি–রাবি উপাচার্য

24
সাকিবুল ফারাবি: মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সিনেট ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ বলেন, বাঙালি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মুক্তিযোদ্ধা সকল শহীদের আত্মহোতী দানকারীদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি আরও বলেন, মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার আম্র কানন বাঙালির ইতিহাসে একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সংজ্ঞায়িত হয়ে থাকবে। ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ স্বাধীণতার ঘোষণার ধারাবাহিকতায় ১০ এপ্রিল সরকার গঠন করা হয়। মুজিব রাজনীতির কবি নন, রাজনীতির একজন শিল্পীও বটে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান বলেন, মুজিবনগর সরকার গঠিত না হলে মুক্তিযোদ্ধা পরিচালনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে অবশ্যই মুজিবনগর সরকার গঠনের তাৎপর্য জানা উচিত। হাজার বছরেও বঙ্গবন্ধুর মতো আর কেউ আবির্ভূত হননি। বঙ্গবন্ধুর মতো নিঃস্বার্থভাবে, স্বার্থত্যাগ ও নিপীড়ন সহ্য করা নেতা বিশ্বে আর দুটো নেই। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগের জায়গা কেউই অতিক্রম করতে পারে নি। মুক্তিযোদ্ধাদের মনে প্রাণে ছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। তিনি আরও বলেন, আমরা এমন নেতা পেয়েছি যার কোন তুলনা হয় না। পৃথিবীর সবগুলো ভাষণের মধ্যে থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণকে জাতিসংঘ ৪১ তম ভাষণ হিসেবে সংযুক্ত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যদ্বয় অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো. জাকারিয়া, অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা ও কোষাধ্যাক্ষ এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান আল-আরিফ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. চিত্ররঞ্জন মিশ্র। এছাড়াও মুজিবনগর দিবসকে (১৭ এপ্রিল) জাতীয়ভাবে ঘোষণা করার দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মেহেরপুর ছাত্র উন্নয়ন সংঘ (মেসডা)। বুধবার (১৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে তারা এ দাবি জানান। এছাড়াও মেহেরপুরে উন্নতমানের চিকিৎসাসুবিধা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিও জানানো হয়।
মানববন্ধনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় সেখানে এসে মিলিত হয়। সংগঠনটির সভাপতি মো. আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে মানবন্ধনে বক্তব্য দেন গিয়াস উদ্দীন, আবু জাফর, তমাল হোসেন, নাজমুল হোসেন প্রমুখ। কর্মসূচির সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্য মো. হাসিব। কর্মসূচিতে দুইশতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ করেন। প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালি জাতির ওপর হামলা চালানোর পর ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়। জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী অস্থায়ী সরকারের মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন। ওই সরকারের শপথ গ্রহণের স্থান বৈদ্যনাথতলাকে মুজিবনগর নামকরণ করা হয়। মুজিবনগর সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here