বোয়ালমারীতে সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে ইউপি চেয়ারম্যান

184

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের সাতৈর-ভীমপুর (এলজিইডি) সড়কের পাশ থেকে কয়েক লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির সরকারি গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো. ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে।

গত রবিবার (১৪.০৪.১৯) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের সাতৈর-ভীমপুর সড়কের রতনদিয়া বাজার থেকে দক্ষিণ খামারপাড়া পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার পাশ থেকে ৮/১০ টি মূল্যবান শিশু ও রেইনট্রি গাছ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেনের নির্দেশে কেটে নিয়ে যাচ্ছে ৩নং ওয়ার্ডের চৌকিদার মো. সাদেক আলী ফকির (৫০)। ৮/১০ টি গাছে মধ্যে অর্ধেক গাছ কেটে নেয়া হয়েছে এবং বাকী গাছগুলি কাটা হচ্ছে। এর মধ্যে রতনদিয়া বাজারের পাশ থেকে একটি রেইনট্রি ও দুইটি শিশু গাছ এবং দক্ষিণ খামারপাড়া থেকে একটি রেইনট্রি ও চারটি শিশু গাছ কর্তন করা হয়েছে। এ সময় গাছ কাটার শ্রমিকদের কিছু গাছের ‘লক’ অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নসিমনে তুলতে দেখা যায়।

এ ব্যাপার স্থানীয় বাসিন্দা রতনদিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদ বলেন, মূল্যবান গাছগুলো চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেনের নির্দেশে চৌকিদার মো. সাদেক আলী দিনমজুর শ্রমিক দিয়ে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ খামারপাড়া গ্রামের আবুল মিয়া জানান, আমার কাছে না শুনেই রাস্তার পাশে আমার লাগানো গাছগুলি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন কেটে নিয়ে যাচ্ছে। লোক পাঠিয়ে গাছ কাটার ব্যাপারে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান জানান, আবুল মিয়া গাছ লাগায়নি, সে ভুল বলছে। আবুল মিয়া আরো জানায়, চেয়ারম্যান সরকারি লোক, আমরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে পারব না। সে যেটা বলবে, সেটাই ঠিক। তাই কারো কাছে কোনো অভিযোগ দিয়ে লাভ নেই। গাছ কাটার বিষয়ে ৩ নং ওয়ার্ডের চৌকিদার সাদেক আলী ফকির বলেন, ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন সপ্তাহ খানেক আগে নিজে এসে আমাকে গাছগুলি দেখিয়ে কাটার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। তাই আমি দিনমজুর শ্রমিক দিয়ে গাছগুলো কাটাচ্ছি।

সড়কের পাশ থেকে সরকারি গাছ কেটে নেয়ার বিষয়ে ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকটি দরজা-জানালা ভেঙ্গে যাবার কারনে সেই গুলো ঠিক করার জন্য গাছ গুলো কাটা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশনও করা হয়েছে। আমি ইউএনও মহোদয় ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়েছি।

সরকারি গাছ কেটে নেয়ার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, গাছ কাটার বিষয়টি আমি জানার পর চেয়ারম্যানকে তার জিম্মায় রাখার কথা বলেছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here