নুসরাত জাহান রাফি’র মামলার মূল আসামির ৭ দিনের রিমান্ড

146
স্টাফ রিপোর্ট: ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে (১৮) কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার ঘটনার মামলার প্রধান আসামী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলাসহ আরো তিনজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বুধবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক শরাফ উদ্দিন আহম্মেদ এর আদালত এ  আদেশ দেন। কোর্ট ইনসপেক্টর গোলাম জিলানী জানান, মাদ্রাসা ছাত্রীর গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনায় আটক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলাকে ৭ দিন, একই মাদ্রাসার ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিন ও সহপাঠি আরিফুল ইসলামকে ৫ দিন করে মঞ্জুর করেন করে আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি/তদন্ত)  মোঃ কামাল হোসেন তাদের প্রত্যেককে ৭দিন করে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত পৃথকভাবে এ আদেশ দেন। এর আগে মঙ্গলবার একই আদালতে নুর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন ও শাহিদুল ইসলামকে ৫দিন করে  রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে মঙ্গলবার রাতে আটক অধ্যক্ষের শ্যলিকার মেয়ে উম্মে সুলতানা পপি ও মামলার এজহার নামীয় আসামী যোবায়ের হোসেনকে আদালতে তোলা হবে। তাদেরও ৭দিন করে রিমান্ড আবেদন করবেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ কামাল হোসেন। উল্লেখ্য, ৬ এপ্রিল শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি। পরীক্ষা শুরুর আগ মূহুর্তে মাদ্রাসার এক ছাত্রী এসে তার বান্ধবি নিশাতকে ছাদের উপর কেই মারধর করেছে এমন সংবাদ দিলে নুসরাত জাহান রাফি ঐ ভবনের চার তলায় যায়। সেখানে মুখোশপরা ৪/৫জন ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। সে অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সোমবার রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। এর আগে ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here