কুমিল্লা ইপিজেডের অগ্নিকান্ডে ২৫০ কোটি টাকার ক্ষতি!

57

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা ইপিজেডের পরিচালনাধীন বেপজা কর্তৃপক্ষ জানান, আগুনে আরএন স্পিনিং মিলের ৯৫ ভাগ পুড়ে গেছে। যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আড়াইশো কোটি টাকা।

কুমিল্লা ইপিজেডের আরএন স্পিনিং মিলের আগুন ১০ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে এখনও সুতা ও তুলার ভেতরের আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি। এই আগুনে পুড়েছে কর্মরত ১২শ’ শ্রমিকের স্বপ্ন। শ্রমিকরা পুড়ে যাওয়া কারখানার চারপাশে গুড়গুড় করছেন। স্ত্রী-সন্তান, মামা-বাবা এবং পরিবার নিয়ে হতাশায় পড়েছেন তারা।

সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় আগুনের সূত্রপাত হয়ে পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সারা রাত কাজের পর মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এখন পর্যন্ত আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে কেউ নিশ্চিত হতে পারনেনি।

কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক রতন কুমার নাথ জানান, স্টিলের অবকাঠামো দিয়ে তৈরি ওই স্পিনিং মিলে প্রচুর পরিমাণ সুতা ও তুলা থাকায় কম সময়েই আগুন পুরো কারাখানায় ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে কারখানার মালামালের ভেতর জ্বলতে থাকা আগুন নিভিয়ে ফেলেতে দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

কুমিল্লা ইপিজেড ও বেপজার সোসাইল কাউন্সিলর মো. সোহেল মিয়া জানান, ২০০৭ সালে আরএন স্পিনিং কারখানাটি সুতা তৈরি শুরু করে। ১২শ’ শ্রমিক কারখানাটিতে কর্মরত ছিলেন। মোট চারটি শিফটে কাজ করতেন শ্রমিকরা। বিকেল ৫টায় জেনারেল শিফটের পর সোমবার রাত ৯টায় আরেকটি শিফটের কাজ শেষ হওয়ার পর শ্রমিকরা বের হচ্ছেন এমন সময় কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। কারখানার কোনও শ্রমিক বা কর্মচারী আহত হয়নি।

তিনি বলেন,‘আগুনে আরএন স্পিনিং মিলের ৯৫ ভাগ পুড়ে গেছে। যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আড়াইশো কোটি টাকা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যতেষ্ট কষ্ট করেছে। পানির কোনও অভাব ছিল না। সুতা এবং তুলার আগুন হওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে। আমরা কারখানার মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি আজ মঙ্গলবার শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার কথা ছিল। তবে আগামী কাল বুধবারের মধ্যে সব শ্রমিদের পাওয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে।

শ্রমিক জসিম উদ্দিন ও মহিন উদ্দিন কুমিল্লা ইপিজেডের আরএন স্পিনিং কারখানায় শ্রমিকের কাজ করে স্ত্রী-সন্তান, মা-বাবা এবং পরিবার চালাতেন। যে বেতন পান তারমধ্য মাসিক কিস্তি এবং ঋণের টাকা পরিশোধ করতেন। সোমবার রাতে তাদের কর্মক্ষেত্র পুড়ে যাওয়ায় তিনি কাঁদছিলেন এবং কারখানার চারপাশে ঘুরছিলেন।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার মো. সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ র‌্যাব ও পুলিশের কর্মকর্তারা গভীর রাত পর্যন্ত ঘটনাস্থলে থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়টি তদারক করেন। এদিকে আগুনে ওই কারখানার ভেতর থাকা সকল মেশিনপত্র, মালামাল ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সঠিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস কিংবা মালিক পক্ষ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here