ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ১০ বৎসরেও কাজ শুরু হয়নি কালচারাল একাডেমি ভবনের

127

সাফায়েত আল মামুন: বরগুনার তালতলী উপজেলার আদিবাসী রাখাইনদের সংস্কৃতি চর্চার জন্য কালচারাল একাডেমির নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দশ বছর পার হলেও কাজ শুরু হয়নি। ফলে এ উপজেলার রাখাইনদের সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য জায়গা না থাকায় হারিয়ে যাচ্ছে তাদের দুইশত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন যুগ আগে রাখাইনদের সংস্কৃতি চর্চার জন্য উপজেলার রাখাইন পাড়ায় একতলা একটি ভবন নির্মাণ করেছিল সরকার। তবে ভবনটির নির্মাণ কাজ নিম্নমানের হওয়ায় আট দশ বছরেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। সংস্কৃতি চর্চার একমাত্র ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় ২০০৯ সালে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শমভু নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপণের দশ বছরেও শুরু হয়নি নতুন ভবন নির্মাণ কাজ।

রাখাইন নেতা মং তাহান, মং চিংন থান সহ অনেকে জানান, ভবনের পাশাপাশি তাদের সংস্কৃতি চর্চার জন্য শিক্ষক ও যে সকল সরঞ্জাম দরকার তার কিছুই নেই এখানে। ফলে তাদের পরবর্তী প্রজন্ম যারা আসবে তারা কেউই তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে সাধারণ ধারণাও টুকুও থাকবে না।

রাখাইনদের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নিপুশে জানান, সংখ্যালঘু হওয়ায় তাদেরকে অবহেলা করছে সবাই। দীর্ঘদিন ধরে একটি ভবনের জন্য রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার কাছে ধরনা ধরেও কোনো কাজে আসেনি।

তবে রাখাইনদের সংস্কৃতি চর্চার স্থানের ব্যাপারে খুব শিঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বরগুনা ১ আসনের সাংসদ এ্যড, ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু । তিনি জানান, রাখাইন সংস্কৃতি যাতে বিলুপ্তি না হয় সেজন্যে আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছি এবং রাখাইন সংস্কৃতি কেন্দ্র যে প্রজেক্ট ছিল সেটি যাতে পুনরায় চালু করা যায় সেজন্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পাঠাব। বর্তমানে বরগুনা জেলায় ১৩টি পাড়ায় প্রায় পাঁচ হাজার রাখাইন পরিবার রয়েছে।