এক বিধ্বস্ত গ্রাম মাগুরার গজদুর্বা!

45

হিমাংশু দেব বর্মণ: মাগুরার শালিখা উপজেলার গজদুর্বা ও সর্বসাংদা গ্রামে সামাজিক বিরোধিতায় ৯ বছরে ২ পক্ষের ৩ জন খুন হয়েছেন। পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে রয়েছে অন্তত ৩০ জন, এ পর্যন্ত মোট আহতের তালিকায় রয়েছে অন্তত ৫০০ জনের নাম। ৩০০ ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সব ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ২০০ কোটি টাকা।

এসব ঘটনায় বিবাদমান ২টি পক্ষের পাল্টাপাল্টি প্রায় শতাধিক মামলা হয়েছে। যার মধ্যে চালু রয়েছে অন্তত ২০/২৫টি। ১টি পক্ষের নেতৃত্ব দেন ধনেশ্বরগাতী ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা। তিনি কয়েক দফা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি পঙ্গু। অন্য পক্ষের নেতৃত্ব দেন একই গ্রামের মোক্তার মন্ডল। গ্রামের সাধারণ মানুষ মামলায় পড়ে অনেক সময় সামাজিক দল পরিবর্তন করে, কিন্তু তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না।

গত ৯ বছর ধরে চলমান এসব ঘটনায় অন্তত শতাধিক পরিবার গ্রাম ছেড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছে। কোন কোন বাড়িতে ১ থেকে ২ জন বৃদ্ধ/বৃদ্ধা বসবাস করছে। প্রায় ৫০টি পরিবারের জমি কয়েক বছর ধরে অনাবাদী পড়ে আছে। কোন কোন পতিত বাড়ি দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। সেগুলো চামচিকা আর পশুপাখির আবস স্থলে পরিণত হয়েছে।

পথে যেতে চোখে পড়ে ঘরের চাল, জানালা দরজা খুলে নিয়ে গেছে শতাধিক বাড়ির। স্বাভাবিকভাবে মনে হয় যেন এটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত কোন এলাকা। ঘটনার সুত্রপাত ২০১১ সালের ২৯ জানুয়ারী গজদূর্বা গ্রামের আনছুর হত্যা। যার মামলা নং ১৫৬/১১। এর পর ২০১৭ সালে মেহেদী হাসানকে হত্যা করা হয়। মামলা নং ১৮৫/১৭। ২০১৯ সালের ২রা জানুয়ারী আব্দুর রশিদকে হত্যা করা হয়। এ ব্যাপারে মামলা নং ৪/১৯। সর্বশেষ আলোচিত ঘটনা ইউপি সদস্য দাউদকে পথিমধ্যে মোটর সাইকেল ঠেকিয়ে সন্ত্রাসীরা তার একটি পা সম্পূর্ন কেটে ফেলে দেয়। এই সকল মামলায় জর্জরিত হয়ে গ্রামবাসীরা যেমন অর্থনৈতিক ভাবে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে, তেমনি তাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধের পথে।

গত কয়েকদিন আগে বাড়ী ভাংচুরের ঘটনায় গজদূর্বা গ্রামের ফিরোজ শেখের স্ত্রী পাপিয়া বেগম ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মাগুরা দ্রুত বিচার আইনে ১টি মামলা দিয়েছেন। মামলার নং ২০/১৯। মামলার বাদী পাপিয়া বেগম জানান তার স্বামী জেলখানায়। গ্রাামের কতিপয় লোকজন তার বাড়ির ছাদ ভাংচুর করেছে। ঘরের দরজা জানালা খুলে নিয়ে গেছে। কিন্তু কোর্টে মামলা করলেও এই ক্ষয়ক্ষতির কথা কেউ মানতে চায়নি। গত ২রা এপ্রিল এই মামলার ৫ নং আসামী মিরাজ মন্ডলকে গ্রামের অন্য একটি ঘর ভাঙার সময় পুলিশ হাতে নাতে গ্রেফতার করেছে।

গ্রামের অপর একজন মাতব্বর কালীবাড়ি বাজার কমিটির সভাপতি মোদাচ্ছের মন্ডল জানান ১৯৭২ সালে চাঁদ আলী হত্যা মামলার সময় থেকে গ্রামের এই সামাজিকার বিরোধীতায় দিনের পর দিন খুন যখম লুটপাটসহ নানা রকম অঘটন ঘটে চলেছে। বর্তমানে আমাদের গ্রাম দুটি বসবাসের একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি তাদের হস্তক্ষেপে গ্রামের স্বাভাবিক অবস্থা পরিবেশ ফিরে আসুক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here