শরীয়তপুরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ডাদেশ

65
এস, এম, স্বাধীন:
যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে স্ত্রীকে হত্যার অপরাধে স্বামী ফারুক খলিফাকে (৩৩) মৃত্যু দন্ডের আদেশ দিয়েছে শরীয়তপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ছালাম খান। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে আসামীদের উপস্থিতিতে এ আদেশ দেয়া হয়। এ মামলার অপর দুই আসামী জলিল খলিফা ও ফুলমতি বেগমকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।মামলার বিবরণ থেকে জানাযায়, ঘটনার ১ বছর পূর্বে সদর উপজেলার পশ্চিম কোয়ারপুর বেপারী কান্দির গ্রামের জলিল খলিফার পুত্র ফারুক খলিফার সাথে একই গ্রামের দপ্তরী কান্দির আবুল হোসেন খানের মেয়ে শেফালী বেগমের বিয়ে হয়। বিবাহের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ি যৌতুকের দাবীতে শেফালীকে নির্যাতন করতে থাকে।২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকাল ৩টার সময় যৌতুকের দাবীতে স্বামী ফারুক খলিফা, শ্বশুর জলিল খলিফা ও শ্বাশুড়ি ফুলমতি বেগম শেফালী বেগমকে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্যাতন করে।
ঘটনার দিনই শেফালীর পিতা বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে। উক্ত নির্যাতনের পর থেকে শেফালী অসুস্থ হয়ে পড়ে। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (প্রায় এক বছর পর) ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর শেফালীর মৃত্যু হয়। ভিকটিমের মৃত্যু পরবর্তী মামলার ধারা পরিবর্তণ হয়ে যৌতুকের দাবীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। আদালতে মামলা চলার ৮ বছর পর আজ মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। এ রায়ে নিহতের পরিবার, রাষ্ট্র পক্ষের কৌশুলী ও বাদী পক্ষে নিযুক্ত আইজীবী ন্যায় বিচার পেয়েছে বলে প্রকাশ করেছে। আসামী পক্ষের আইনজীবী দাবী করেছেন তারা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আসামীকে উচ্চ আদালতে যেতে পরামর্শ দিবেন সে। ফারুক খলিফা ও ফুলমতি মেগম গ্রেফতার হয়ে হাজত বাসের পর জমিন লাভ করে। আসামী জলিল খলিফা অসুস্থ অবস্থায় আদালতের হাজির হয়ে জামিন পায়। যুক্তিতর্ক শুনানীর প্রথম দিন আসামীদের পুনরায় হাজতে নেন বিচারক। রায়ের আদেশে প্রধান আসামীকে দন্ড দিয়ে অপর আসামীদ্বয়কে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, মেডিকেল অফিসার, জবানবন্দী গ্রহনকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সহ মোট ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়। একাধারে ৪দিন যুক্তিতর্ক শুনানী শেষে বুধবার এই রায় ঘোষনা করা হয়। রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এডভোকেট ফিরোজ আহমেদ, বাদী পক্ষে এডভোকেট মো. কবির হোসেন ও এডভোকেট তরিকুল ইসলাম সোহাগ। আসামী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এডভোকেট বজলুর রশিদ আকন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here