জ্বালানি তেলকে ঘিরে অস্থিরতা কমার কোনো লক্ষণ নেই। সরকার বলছে সরবরাহ স্বাভাবিক, কিন্তু বাস্তবে অনেক পেট্রোল পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠন আশঙ্কা করছে—সরবরাহ সংকট ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে যেকোনো সময় দেশের পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সোমবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ গাড়ির সারি দেখা গেছে, যা প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তবে এত অপেক্ষার পরও অনেক চালক জ্বালানি পাননি। একই চিত্র রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে—অনেক পাম্প বন্ধ, আর চালকেরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরেও তেল পাচ্ছেন না।
পাম্প মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে, কোম্পানিগুলো থেকে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তা দিয়ে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকলে পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানি পরিবহন ও বিপণন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন।
পাম্প কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, টানা দুই দিন ডিপো বন্ধ থাকায় আগের মজুত তেল শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে সরবরাহ শুরু হলেও দৈনিক চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল পাওয়া যাচ্ছে—যেখানে প্রায় ২৭ হাজার লিটার প্রয়োজন, সেখানে মিলছে মাত্র ৯ হাজার লিটার।
এদিকে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও জ্বালানি না পেয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ঈদের সময় ডিপো বন্ধ থাকা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় সমন্বয়ের অভাবকে তারা এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ৪ মার্চ থেকে সরকার তেল সরবরাহে সীমিত বণ্টন চালু করে, যা ১৫ মার্চ তুলে নেওয়া হয়। তবে সরকারি আশ্বাস সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে ভোগান্তি এখনও কমেনি