এবার অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে নির্যাতন করলো পুলিশের এসআই জিয়া!

171

অনলাইন প্রতিবেদন।।

মেহেদী হাসান বাকের নামের এক যুবককে ধরতে যায় পুলিশ। এসময় তাকে না পেয়ে তার অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে নির্যাতন এবং বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোটরসাইকেল লুটের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার দুপুরে মেহেরপুর পৌর এলাকার দিঘীরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত লস্কর লাজুল ইসলাম ওরফে জিয়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

মেহেদী হাসান বাকেরের বাবা সামসুল ইসলাম একজন পুলিশ কর্মচারী। তিনি রংপুরে কর্মরত রয়েছেন।
তবে অভিযুক্ত এসআই জিয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে বাকেরের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মারিয়া খাতুন মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে মহিলা ওয়ার্ডের গাইনী বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন।

বাকেরের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মারিয়া খাতুন জানান, দুপুরে বাড়িতে রান্না করছিলাম। এমন সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তখন এসআই জিয়া দুইজন পুলিশ সদস্য নিয়ে বাড়ির দরজায় ডাকাডাকি শুরু করেন। বাড়িতে কেউ নাই বলাতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে টিনের দরজায় লাথি মারলে দরজা খুলে যায়। এরপর তিনি ভিতরে প্রবেশ করেন। এসময় গালিগালাজ করতে করতে ঘরের মধ্যে ঢুকে ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করা শুরু করে। চেয়ার টেবিলসহ বিভিন্ন জিনিস ভাঙচুর করে এবং আলমারিতে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে। পরে রান্না ঘরে মোটরসাইকেল দেখে চাবি চায়।

চাবি দিতে না চাইলে তখন তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং বিভিন্ন হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে চাবি দিলে মোটরসাইকেলটি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন এবং বলেন টাকা দিয়ে মোটরসাইকেল ফেরত নিয়ে আসতে।

তিনি আরও জানান, ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও নিয়ে গেছেন।

অন্যদিকে মেহেদী হাসান বাকের বলেন, সোহেল নামের এক অটোচালকের সঙ্গে পূর্বের একটি বিরোধ থেকে সে থানায় আমার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসআই জিয়া আটক করতে আসেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অপরাধ করলে আমি করেছি। আমার স্ত্রী কোন অপরাধ করেনি। আমার বাড়িঘর কোন অপরাধ করেনি। আমার বাবাও একজন পুলিশ কর্মচারী। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে এ ধরনের ব্যবহার তিনি করতে পারেন না। আমরা আইনগত ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনে মামলা করবো।

প্রতিবেশী আনজিরা খাতুন জানান, তিনজন পুলিশ এসে বাড়ির ভিতরে সবকিছু ভেঙে মোটরসাইকেলটি নিয়ে চলে গেল।

বাকেরের নানী সফুরা খাতুন জানান, বার বার করে মোটরসাইকেলটি না নিয়ে যাওয়ার জন্য হাতজোড় করলাম তবুও শুনলো না। মোটরসাইকেল নিয়ে গেল আবার টাকা নিয়ে গিয়ে ছাড়িয়ে আনতেও বললো।

অভিযুক্ত এসআই লস্কর লাজুল ইসলাম জিয়া বলেন, তার বিরুদ্ধে করা সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তবে বাড়িতে একটি অনটেষ্ট মোটরসাইকেল ছিল সেটি নিয়ে এসেছি বলে স্বীকার করেন। মোটরসাইকেল কোন অপরাধে নিয়ে এসেছেন? এমন প্রশ্নে তিনি কোন জবাব দেননি।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, মেহেদী হাসান বাকের নামের একজনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়ে সেখানে তাকে আটক করতে যাওয়ার কথা ছিল। বাড়িতে না পাওয়া যাওয়ায় তাকে আটক করা যায়নি। যেহেতু আটক করতে পারেনি সেই হিসেবে মামলা করার কথা বলেছি। তবে জিয়া এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

বিডি প্রতিদিন/২৩ জানুয়ারি ২০১৯