সভাপতি; সম্পাদকের সামনেই শিক্ষার্থীকে মারধর করলো ছাত্রলীগ

840
কুবি প্রতিনিধি: 
এবার শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সামনেই এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মারধরের পর এই বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে তাকে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ নিষেধ করেন বলে জানান ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী জাহিদুল ইসলাম ইংরেজি বিভাগের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী। সোমবার (১৪ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় মূল ফটক সংলগ্ন স্থানে তাকে মারধর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এক হোটেলে খেতে গিয়ে চেয়ারে বসা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ইংরেজি বিভাগের ৮ম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলামের সাথে হাতাহাতি হয় অর্থনীতি ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগ কর্মী মেহেদী হাসান অভি’র। এসময় উভয়েই আহত হন।
এই ঘটনার পর দুপুরে তাদের উভয়কে নিয়ে ক্যাম্পাস সংলগ্ন খালেকের চা দোকানে ঘটনার মীমাংসায় বসেন শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। এসময় নেতাদের সামনে থেকে তুলে নিয়ে জাহিদুল ইসলামকে লাঠি, রড ও চা দোকানের চেয়ার দিয়ে বেধড়ক প্রহার করে বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আলম দীপ্ত (এআইএস- ১০ম); বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-মানব সম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক মো: এনায়েত উল্লাহ (লোক প্রশাসন- ১১তম), উপ-প্রচার সম্পাদক আহমেদ আলী বুখারী (আইসিটি- ১১তম), উপ-সমাজসেবা সম্পাদক মুনতাসির আহমেদ হৃদয় (এআইএস- ১১তম),উপ-দপ্তর সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম মিঠুন (এআইএস- ১০ম), সহ-সম্পাদক কাজল হোসেন (আইসিটি- ১১তম), ছাত্রলীগ কর্মী সিফাত (অর্থনীতি ১২তম) সহ আরও কয়েকজন। এসময় জাহিদুলের সাথে থাকা তার সহপাঠী খান জাহিদুল ইসলামও আহত হন।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা আহত জাহিদুল ইসলামের বক্তব্য শুনতে চাইলে তাকে কথা বলতে না দিয়ে পাশে সরিয়ে নেন শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ।
পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘটনা জানতে চাইলে মারধরের শিকার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মারধরের পর আমাকে নিয়ে বসেছিলেন। তারা সাংবাদিকদের সাথে আমাকে কথা না বলার জন্যও বলেন। কারণ পরবর্তীতে আমার কিছু ঘটলে কে দেখবে? সামনে আমার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা।’
ছাত্রলীগ কর্মী মেহেদী হাসান অভি জানান, ‘আমি আমার মেয়েবন্ধুর সাথে হোটেলে বসেছিলাম। তিনি (জাহিদুল ইসলাম) আমার সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং আমাকে মারধর করেছেন।’
শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘ছাত্রলীগের একটি ছেলের গায়ে হাত দেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে বিষয়টি মীমাংসা করতে আমরা বসেছিলাম।’
মীমাংসা করতে বসে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সামনে কীভাবে শিক্ষার্থী প্রহৃত হয় জানতে চাইলে তিনিসহ অন্যান্য নেতারা বলেন, ‘ছেলেরা ক্ষেপে ছিলো, তাদের আমরা শান্ত করতে পারিনি।’
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের ০৭ জানুয়ারি দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় মার্কেটিং বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের মো. জাহিদুল ইসলামকে মারধর করে শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। ঐ ঘটনার দৃশ্যমান কোনো বিচার হয়নি এখনও।
এছাড়াও অভিযুক্ত এই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এর আগে একাধিকবার দলীয় নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ আছে। এসব ঘটনার দৃশ্যমান কোনো বিচার করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিচার না হওয়ায় এসব ঘটনা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন জানান, ‘আজকের (১৪ জানুয়ারি) ঘটনা নিয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করে নাই। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।’
আগের ঘটনাগুলোর বিচার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কালকে (১৫ জানুয়ারি) ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে সমাধান করবো।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here