ডোমারে কষ্টি পাথরের বৌদ্ধমূর্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান আটক

27

শাহজাহান আলী মনন॥ ইউপি চেয়ারম‌্যানের বাড়ি থেকে আত্মসাৎকৃত প্রাচীন কষ্টিপাথরের গৌতম বুদ্ধের মূর্তি উদ্ধার করেছে নীলফামারীর ডোমার থানা পুলিশ। ওই মূর্তি আত্মসাতের ঘটনায় রবিবার (১৩ জানুয়ারী) সন্ধায় উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কামাল আজাদকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই ইউনিয়নে মৎস্য চাষের জন্য মৎস্য বিভাগের পক্ষে চোমুয়া বিল নামের জলাশয়টি খননকাজ চলছে। বিল খনন কালে গত শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে মাটির তলদেশে পাওয়া যায় একটি প্রাচীন কষ্টিপাথরে বৌদ্ধ মূর্তি। সে সময় সোনারায় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের ছেলে ফরহাদ হোসেন কৌশলে মূর্তিটি হাতিয়ে নিয়ে চলে যায়। ঘটনাটি

এলাকায় জানাজানি হলে চেয়ারম্যান ও তার ছেলে ফরহাদ হোসেন (২৮) আসল মূর্তিটি লুকিয়ে রেখে গত শনিবার (১২ জানুয়ারি) সকালে পুরাতন ইট ও কাঠের টুকরা থানায় জমা দেয়।পুলিশের সন্দেহ হলে ডোমার থানা পুলিশ সরেজমিনে খনন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে আসল মূর্তিটির বিষয়। শনিবার গভীর রাতে সিনিয়র সহকারী পুলিশ
সুপার (সার্কেল) জয়ব্রত পালের নেতৃত্বে ডোমার থানার ওসি মোকছেদ আলী বেপারী সহ পুলিশ ফোর্স চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কষ্টিপাথরের আসল মূর্তিটি উদ্ধার করে।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জয়ব্রত পাল বলেন, মূর্তিটি ফেরত দিতে চেয়ারম্যান ও তার ছেলে ফরহাদ গড়িমসি করে এবং তা আত্মসাতের চেষ্টা চালায়। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আমরা তা উদ্ধার করতে পেরেছি। মূর্তিটির ওজন ৭ শত ৫০ গ্রাম, দৈর্ঘ্য সাড়ে ছয় ইঞ্চি, প্রস্থ আড়াই ইঞ্চি।

ডোমার থানার ওসি মোকছেদ আলী বেপারী বলেন, মূর্তিটি আত্মসাতের চেষ্টার অপরাধে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ছেলে ফরহাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে অবগত করার পর নির্দেশ মতো রবিবার সন্ধায় সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে আটক করা হয়। তার ছেলেকেও আটকের চেষ্টা চলছে। এ ব‌্যাপারে একটি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নে মৎস্য অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় চোমুয়ার বিল পুনঃ খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক বেগম নাজিয়া শিরিন। প্রকল্পটির জন্য ১৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় হয়েছে বলে জানা যায়। সেই বিল খননকালেই মূর্তিটি পাওয়া যায়।

এদিকে খননকালে শ্রমিকরা ওই জলাশয়ের তলদেশে মন্দির ও সিড়ি দেখতে পেয়েছে বলে প্রশাসনকে জানিয়েছে। একারণে প্রশাসনের পক্ষে চোমুয়ার বিলের খনন কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা: উম্মে ফাতিমা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, প্রত্মতান্ত্রিক বিভাগের দক্ষ কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের পর বিলটির খননের
বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here