দৌলতপুরে পানের চড়া দামে খুশি চাষি, বিপাকে ভোক্তা

46

দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এমন কোন পরিবার নাই যে, পান খান না।দাদি, নানি, নানা,মামা, মাসি, বাবা-মা, কেউ না কেউ পান খানই। আবার কেউ সখ করে হলেও খান পান। পান খাবার অভ্যাস নেই যাদের তারাও কোন না কোন অনুষ্ঠানে ভোজের শেষে এক খিলি পান মুখে পুরতে ভাল বাসেন। কিন্তু এবার পানের দাম রেকর্ড পরিমান বেড়ে যাওয়ায় এসব ভোক্তারা পড়েছেন বিপাকে। শহরে খিলি পানের দোকানে এক খিলি পান বিক্রি হচ্ছে ৭-১০ টাকায়। শখের এই খাবারের দাম লাগাম ছাড়া হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। পানক্রেতা শামসুজ্জামান সবুজ বলেন পান সুপারির যেভাবে দাম বেড়েছে তাতে মধ্যবিত্তের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। দিন দিন পানের দাম বেড়ে যাওয়ায় এরই মধ্যে কমিয়ে দিয়েছেন অনেকে পান খাওয়া। অপরদিকে এবার পানের ভাল দাম পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। চলতি মৌসুমে যেসব চাষিদের পানের বাম্পার ফলন হয়েছে তাদের চোখ এখন খুশিতে চক চক করছে। উপজেলার মথুরাপুর, ও দৌলতখালির বেশ কয়েকজন চাষি জানান, চলতি মৌসুমে যেসব চাষিদের পানের বাম্পার ফলন হয়েছে তারা দামও তেমন পাচ্ছেন। পান চাষ নিয়ে এবার চাষিদের মুখে হাসি। সোমবার (১৪জানুয়ারী) সকালে উপজেলার তারগুনিয়া গ্রামের পান চাষি আঃ লতিফ জানান, বৃষ্টি কম হওয়ায় ফলন তুলনামুলক কম হলেও পানের দাম অনেক বেশি তাই প্রকার ভেদে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা করে এক পোন (৮০ টি) পান পাইকারী বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি জানান তাদের গ্রামে প্রায় শাধিক পানের বরজ(পান ক্ষেত) রয়েছে। উপজেলার বাগোয়ান ছাড়া ফারাকপুর, বৈরাগীরচর, ফিলিপ নগর, দফাদার পাড়া, কায়ামারী, আল্লার দর্গা, আমদহ,ঘোড়ামারা, বড়গাংদিয়া, দলের মাঠ, হিষনা পাড়া, বাহিরমাদি প্রাই প্রতি বাড়িতেই কমবেশি পানের বরজ রয়েছে। এসব এলাকার পান মথুরাপুর, তারাগুনিয়া ও ভেড়ামারা বাজারে পাইকারী বিক্রি হয়। এসব পান ঢাকা, কুমিল্লা থেকে ব্যাপারীরা এসে কিনে নিয় যান।
উপজেলার শীতলাই পাড়া গ্রামের বিশ্ব বিদ্যালয় পড়–য়া পান চাষী মনিরুল ইসলাম বলেন আমার ১০ কাঠার একটি পানের বরজ রয়েছে। ফলন ভালই হয়েছে এবছর তুলনামূলক বৃষ্টি কম হওয়ায় পানের ফলন তুলনামূলক কম। যাদের ফলন ভালো হয়েছে তারা যেকোন সময়ের চেয়ে পানের ভালো দাম পাচ্ছেন। তিনি জানান পানের দাম সামনে আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here