কুমিল্লা পুলিশ লাইনস্’এ পৌনে ৩ কোটি টাকার মাদক মামলার আলামত ধ্বংস

71

খন্দকার দেলোয়ার হোসেনঃ
কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন থানায় ২০০৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দু’হাজার আট’শ ৮৬টি মাদক মামলার আলামত হিসেবে থাকা প্রায় পৌনে ৩ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমান মাদক মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লা পুলিশ লাইনস্’এ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম.পিপিএমসহ উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ অফিস সুত্রে জানা যায়, ভারত সীমান্তবর্তী কুমিল্লার ৭৪ কিলোমিটার অংশ দিয়ে প্রতিনিয়ত সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন শ্রেনীর মাদক প্রবেশ করছে। এই মাদক পরবর্তীতে জেলাসহ রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য স্থানে পাচাঁর হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ,পুলিশের গোয়েন্দা শাখা,হাইওয়ে পুলিশ,র‌্যাব,কখনো কখনো সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে মাদকসহ মাদক পাচাঁরকারী বা ব্যবসায়ীদের আটকের ঘটনা ঘটে । এঘটনায় মামলা দায়েরের পর মামলার আলামত হিসেবে জব্দকৃত মাদকের একটা অংশ সংগ্রহে রাখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমনি ২০০৬ থেকে ২০১৮ ইং পর্যন্ত জেলার বিভিন্নস্থানে উদ্ধারকৃত মাদকের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা দু’হাজার আট’শ ৮৬ টি মামলার আলামত হিসেবে জব্দকৃত বিপুল পরিমান মাদক গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় কুমিল্লা পুলিশ লাইনস্ এর রেশন ষ্টোর সংলগ্ন স্থানে রোলার দিয়ে ধ্বংস করা হয়। ধবংস করা মাদকের তালিকায় ছিল এক কোটি ১৭ লাখ ৬ হাজার টাকা মূল্যের মরণনাশা মাদক ফেন্সিডিল ১৯ হাজার ৫’শ ১০ বোতল, তিন লাখ ৪৪ হাজার টাকা মূল্যের রিকোডেক্স ১ হাজার ৭’শ ২০ বোতল, ৫ লাখ ৮ হাজার টাকার স্কাফ সিরাফ ২ হাজার ৫’শ ৪০ বোতল, এককোটি ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকার গাঁজা দু’হাজার ৭’শ ৪৯ কেজি , তিন লাখ ৪৪ হাজার ৪’শ টাকার ৯০০০ বিয়ার হিউম্যান ৮’শ ৬১ বোতল , ৯ লাখ ২৯ হাজার ৪’শ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকারের বিদেশী মদ ৩ হাজার ৯৮ বোতল,৫৮ হাজার ৮’শ টাকার ৫’শ ৮৮ লিটার চোলাই মদ , এক লাখ ৪৪ হাজার টাকার ৭’শ ২০ ক্যান বিয়ার ,দু’হাজার ৬’শ টাকার ১৩টি হিলডন, দু’হাজার টাকার ১০ বোতল রেক্টিফাইড স্পীড ও একলাখ ৩৯ হাজার টাকা মূল্যেও একহাজার তিন’শ ৯০ পিছ ইয়াবা। চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সোহেল রানা ও সিনিয়র ম্যাজিষ্ট্রেট শাহনেওয়াজ মুনিরের উপস্থিতিতে পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম.পিপিএম ছাড়াও অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন,অতিরিক্ত পলিশ সুপার (দক্ষিণ) আব্দুল্লাহ আল মামুন,অতিঃ পুলিশ সুপার (উত্তর) শাখাওয়াত হোসেন,কোর্ট পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জি, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি নাসির উদ্দিন মৃধা, কোর্ট ইন্সপেক্টর মফিজুল ইসলাম,টিআই কামাল উদ্দিন,ইন্সপেক্টর (খাদ্য ভান্ডার) সাহাবুদ্দিন প্রমূখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here