সুুন্দরবনে দু’মাস মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা,দিশেহারা জেলেরা

48

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে আগামী পহেলা জুলাই থেকে সুন্দরবনের নদী ও খালে সকল ধরনের মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করেছে বনবিভাগ । আগামী ৩০ আগষ্ট পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এজন্য ২৪ জুন থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য সব পাশ ও পারমিট দেওয়া বন্ধ রেখেছে বন বিভাগ। প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছ ও কঠিন আবরণযুক্ত জলজ প্রাণী বসবাসের নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং মাছের মজুদ সংরক্ষণ সুষ্ঠু ও সহনশীল আহরণ নিশ্চিত করার স্বার্থে প্রতিবছর এই সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বনবিভাগ এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

এদিকে, মাছ আহরণ ব্যাতীত বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় জেলেদের জীবন জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চলমান এ নিষেধাজ্ঞায় জেলেদের জীবন-জীবিকা আরো কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন তারা। প্রতি মাসের আমাবশ্যা ও পূর্নিমার সময় জেলেরা মৎস্য আহরন করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এ মৎস্য আহরনের সাথে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িত। জেলেদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, “ গভীর সাগরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা মাছ ধরি। মাছ আহরনই আমাদের জীবিকার একমাত্র উৎস। দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকলে আমরা কীভাবে মহাজনের ঋণ শোধ করবো? আর কীভাবেই বা নিজেরা খাবো?”। এসময় সরকারের কাছে বিকল্প কর্মসংস্থান ও সরকারী সহযোগীতার জোর দাবি জানান তারা।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, “ সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্লাান্টস এর (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সালে মৎস আহরনে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় । মৎস্য সম্পদ রক্ষায় প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও দুই মাসের এ নিষেধাজ্ঞা আদেশ কার্যকর করা হবে। এ সময়ে চোরা মাছ শিকারী জেলেদের ধরতে বনে টহল জোরদার থাকবে”। করোনা কালীন সময়ে জেলেদের সমস্যার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হবে বলে জানান বিভাগীয় এ বন কর্মকর্তা।