স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ ও কুশপুত্তলিকা দাহ

101

কালজয়ী ডেস্ক:  আজ ২৫ জুন বেলা ১১ঃ৩০ টায় প্রগতিশীল ছাত্র জোটের উদ্যোগে ব্যর্থ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশটি রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শুরু হয়। পরবর্তীতে নেতৃবৃন্দ মিছিল সহযোগে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সামনে অবস্থান নেন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।প্রগতিশীল ছাত্র জোটের স্বমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট’র সাধারন সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার-এর সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদি হাসান নোবেল ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট’র সাধারন সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স।

বক্তারা বলেন,” করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত মানুষের জীবন। লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, বিনা চিকিৎসায় হাজারো মানুষ মারা যাচ্ছে।কিন্তু মানুষের জীবন বাঁচাতে সরকারের ন্যূনতম প্রস্তুতিও নেই। সরকার ব্যস্ত নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালায়ের ব্যর্থতা ও সমন্বয়হীনতা পাহাড় -সমান। এ মুহূর্তে  সংক্রমন প্রতিরোধে প্রয়োজন বেশি বেশি পরিমান টেস্ট করা। কিন্তু আমরা জানি ৪৩ টি জেলায় কোন পিসিআর মেশিন নেই। টেস্ট কিটের অভাবে পরীক্ষা বন্ধ থাকছে বিভিন্ন জেলায়। হাসপাতালগুলোতে নেই দক্ষ চিকিৎসক -নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী। হাসপাতাল গুলোতে নেই পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড,ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা। অক্সিজেন সিলিন্ডার গ্যাসের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। মানুষের অসহায়ত্ব সকল মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।এই মহামারীর সময়েও থেমে নেই চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে ব্যবসা। নিম্নমানের মাস্ক- পিপিই সরবরাহ করে টাকা লুটে নিচ্ছে সরকার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীগোষ্ঠী।  দেশের চিকিৎসক -নার্স- স্বাস্থ্যকর্মীরা সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে মারা যাচ্ছেন।

সরকারী হিসেবে,  গত ২২ জুন পর্যন্ত মারা গেছেন ৪২ জন ডাক্তার,১০ জন নার্স। আক্রান্ত ১১৯০ জন ডাক্তার ও ২৪১০ জন স্বাস্থ্যকর্মী। চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মীরা যখন পিপিই-এর অভাবে সম্মুখযুদ্ধে  মারা যাচ্ছেন, তখন বেক্সিমকো গ্রুপ ৬৫ লক্ষ পিস পিপিই ইউরোপ -আমেরিকায় রপ্তানি করে। এই হলো মুনাফাকেন্দ্রিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার আসল চিত্র।”  নেতৃবৃন্দ আরও বলেন,”সরকারের দেওয়া তথ্যের চেয়ে সংক্রমণের বাস্তব চিত্র বহুগুণ বেশি। এসব নিয়ে কথা বললেই চলছে গ্রেফতার- নির্যাতন। এই অবস্থায় প্রয়োজন ছিলো মানুষের ঘরে-ঘরে খাদ্য পৌঁছে দিয়ে লকডাউন জোরদার করা। কিন্তু তা না করে জাতীয় স্বার্থের কথা বলে পুঁজিপতিদের স্বার্থে লকডাউন তুলে দেওয়া হলো। লক্ষ কোটি মানুষকে মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হলো। সরকার শুধু জিডিপির কথা বলছে। কিন্তু এই জিডিপি’র মধ্যে মানুষ নেই এবং তা নিম্নবিত্ত -মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনকে রক্ষা করছে পারছে না।নেতৃবৃন্দ সমাবেশ থেকে দাবি করেন-সবার জন্য সরকারী উদ্যোগে চিকিৎসা নিশ্চিত করা। করোনা মোকাবেলায় আপদকালীন স্বাস্থ্যখাতে জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ কর।

মহামারী মোকাবেলায় রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা জনসম্মুখে হাজির করো।প্রতিটি জেলা শহরে ২৫ টি ভেন্টিলেটর মেশিন ও আইসিইউ সাপোর্টসহ ৫০০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু করো।সকল হাসপাতালে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত কর,অক্সিজেন সিলিন্ডারের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দাও। বেসরকারী হাসপাতালগুলোকে অধিগ্রহন করে করোনা চিকিৎসা চালু কর। বিক্ষোভ শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।