ইন্টারমিটেন্ট ফাষ্টিং,সুস্থ জীবনের জীবনাচরণ

148

ডায়েটিং এর দুনিয়াতে যাদের আনাগোনা আছে তারা সবাই কমবেশী ইন্টারমিটেন্ট ফাষ্টিং শব্দবন্ধের সাথে পরিচিত।ডায়েন্টিং পদ্ধতি গুলোর মধ্যে ইন্টারমিটেন্ট ফাষ্টিং সবচেয়ে জনপ্রিয়। ইন্টারমিটেন্ট ফাষ্টিং  আপনাকে ওজন কমানো, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি সহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। এখন পর্যন্ত গবেষণায় ইন্টারমিটেন্ট ফাষ্টিং এর ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। শেষ কথা এখুনি বলা না গেলেও প্রাপ্ত ফলাফল এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত   ইন্টারমিটেন্ট ফাষ্টিং মানব দেহে বিষ্ময়কর ফল নিশ্চিত করেছে।যারা ইন্টারমিটেন্ট ফাষ্টিং এর অর্থ জানেন না তাদের জানিয়ে দেয়া যাক ইন্টারমিটেন্ট ফাষ্টিং কি? ফাষ্টিং আর ইন্টারমিটেন্ট ফাষ্টিং এ কিছুটা ভিন্নতা থাকলে দুটোই হল উপবাস থাকা বা আহার থেকে বিরত থাকা। ইন্টারমিটেন্ট ফাষ্টিং হল আপনার দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে  একটি নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকা।

এটা হতে পারে আপনি ১৬ ঘন্টা আহার থেকে বিরত থাকলেন বাকী ৮ ঘন্টা আপনার খাবার আপনি খেলেন।যে ১৬ ঘন্টায় আহার থেকে বিরত থাকলেন তাকে বলা হবে ফাষ্টিং উইন্ডো আর যে আট ঘন্টা খেলেন সেটা ইটিং উইন্ডো। সময় ১৮ ঘন্টা বিরত থেকে ৬ ঘন্টায় খেয়েও আপনি ইন্টারমিটেন্ট ফাষ্টিং করতে পারেন। এটা ২০ আর ৪ এও আপনি করতে পারেন।অর্থাৎ ২০ ঘন্টা আহার বিরত থেকে ৪ ঘন্টায় খাবার খেতে পারেন। ইন্টারমিটেন্ট ফাষ্টিং এর সময় ফাষ্টিং সময়টাতে আপনি শুধু পানি খেতে পারবেন।অনেকে আবার ফাষ্টিং সময়ে পানিও খান না, এটাকে ড্রাই ফাষ্টিং বলা যায়। রোযা থাকার বা উপবাসের উপকারিতা আমরা সবাই জানি।শরীরের মেটাবোলিজম এর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে ফাষ্টিং বা উপবাস।এতে আপনার শরীরের  জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি দ্রুত গলবে।ইন্টারমিটেন্ট এভাবে শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে। ত্বকের সমস্যা দূর করে ত্বককে সতেজ ও টানটান করতে ফাষ্টিং এর কার্যকরীতা সন্দেহতীত। ঘুমানোর ৪-৫ ঘন্টা আগে অর্থাৎ সন্ধ্যা ৬ টার মাঝে আপনি দিনের শেষ খাবার খেয়ে পরদিন ব্রেকফাষ্ট স্কিপ করে ১২ টায় আপনি লাঞ্চ করতে পারেন। খালি পেটে ঘুমাতে যাওয়ার বেনিফিট অনেক। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চর্বি গলে এই ভাবে খ্যাদ্যাভাস করতে পারলে। ইন্টারমিটেন্ট ফাষ্টিং এর ব্যাপারে পশ্চিমা বিশ্বের আগ্রহ দিনকে দিন বেড়ে চলেছে। সুবিধা অনুযায়ী আপনি আপনার ফাষ্টিং উইন্ডো,ইটিং উইন্ডোর সময় নির্ধারণ করতে পারবেন। খালি পেটে থাকলে চর্বি বার্ন আউট হয়,অটোফেজী কার্যকর হয়।আমরা জানি অটোফেজী হল নিজের শরীরের অপ্রয়োজনীয় প্রোটিন বা পদার্থ  ধংস করে ফেলা।

খালি পেটে থাকলে শরীর নিজেকে রিসাইকেল করার সুযোগ পায়।ফাষ্টিং সময়টাতে আপনি পানি, ব্লাক টি কিংবা ব্ল্যাক কফি খেতে পারেন। ফাষ্টিং আমাদের ইনসুলিন লেভেল কমাতে সাহায্য করে।ইনসুলিন হচ্ছে এমন একটা হরমোন যা আমাদের শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রন করে।উপবাস বা ফাষ্টিং অর্থাৎ আপনি যদি ইন্টারমিটেন্ট ফাষ্টিং এর অভ্যাস করতে পারেন তাহলে আপনি ফ্যাট আডাপ্টেশন করে শরীরের ওজন কমাতে পারবেন। তবে শর্ত হচ্ছে আপনাকে ইটিং আওয়ার বা ফিডিং আওয়ারে চিনি বা চিনি জাতীয় খাবার  গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন।ক্যন্সার সহ ভাস্কুলার ডিজিজের বেলাতেও রোযা বা ফাষ্টিং ভূমিকা রাখে।মানুষ অতিরিক্ত খেয়েই অসুস্থ হয়,য়াই জীবনাচরণে যদি ইন্টারমিটেন্ট ফাষ্টিং   আপনি এডপ্ট করে নেন তবে নীরোগ, উচ্ছাস ভরা একটা জীবন আপনি পেতে পারেন।কি পাঠক ইন্টারমিটেন্ট ফাষ্টিং শুরু করবেন নাকি? 

লেখক: এডভোকেট মোজাদ্দেদ হাসান আদনান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট….