কুবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে অধ্যাপককে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ

147

কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরী কর্তৃক ‘অপ্রত্যাশিত দুর্ব্যবহার’র শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান। এই সংক্রান্ত একটি লিখিত পত্রও তিনি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর। তবে উপাচার্য বলেছেন অধ্যাপক নিজেই তার সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন।

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় গত ১ জুন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সেই অধ্যাপক। সভাতে উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ডিন, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সভা অন্তত ৭ দিন আগে আহ্বান করতে হয়। কিন্তু ৫৪তম এই সভার জন্য আমাকে আহ্বান করা হয়েছে সভার আগেরদিন। পাশাপাশি একটি একাডেমিক কাউন্সিলের সভার কোনো আলোচ্যসূচীও ছিলো না। মিটিংয়ে কে কখন কথা বলবে তারও কোনো ধারাক্রম ছিলো না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এসব বিষয়ে কথা বলতে আমি ফ্লোর নিয়ে সভার সদস্য সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে অনুরোধ জানাই সভাটিকে একটি গোছানো অবস্থায় নিয়ে আসতে। উল্লেখ্য যে, কোনো সভা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিবকেই পরিচালনা করতে দেখি। আমার কথা শুনেই উপাচার্য ফ্লোর নিয়ে নেন এবং আমাকে বলেন- আমি নিয়ম কানুন বুঝি না কথা বলতে আসি। ওই সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন তার মাঝে অভ্যন্তরীণ সদস্যদের মাঝে আমিই সিনিয়র অধ্যাপক ছিলাম। বাইরের দুইজন সদস্যসহ সবার সামনে এমন আচরণের সম্মুখীন হয়ে আমি বিব্রত। রাজনৈতিক কারণে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আমার সাথে এমন আচরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিতও দিয়েছি।’

এছাড়াও যদি ভবিষ্যতে তার সাথে এমন আচরণ করা হবে না এই নিশ্চয়তা না দেওয়া হয় তবে এ ধরণের সভায় তিনি আর অংশগ্রহণ করবেন না, এমনকি উক্ত সভার ফুটেজসহ তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির দপ্তরে অভিযোগ করতে প্রস্তুত বলেও জানান অভিযোগকারী অধ্যাপক।

এ ব্যাপারে জানতে ফোন করা হলে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো: আবু তাহের বলেন, ‘আমি মেইল পেয়েছি। ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত। তবে সভার সভাপতি উপাচার্যের উপরে গিয়ে কোনো বিষয়ে ডিক্লেয়ার দেওয়ার অধিকার একজন সদস্য রাখেন না। আর এটি করতে গিয়েই একটি ভুল বুঝাবুঝির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরবর্তীতে তিনি ব্যাপারটাকে যেভাবে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়েছেন সেটা ঠিক হয়নি।’

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ রশিদুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘তিনি সভার ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন এরকম কোনো কিছু আমি শুনিনি বা কাগজও পাইনি। তবে শুনেছি তার পূর্বের করা রিটটি স্থগিত হয়ে গেছে। আর তার সাথে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে কিছু হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।’

ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী জানান, ‘তিনি নিজেই তো সভায় দুর্ব্যবহার করেছেন। তিনি নিজেরটা নিজে বলেন না। তিনি ভাইস চ্যান্সেলরের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন, অবমাননা করেছেন। ভাইস চ্যান্সেলর যেখানে সভা পরিচালনা করবেন সেখানে তিনি রেজিস্ট্রারকে বলছেন সভা চালাতে।’

অভিযোগকারী অধ্যাপকের পত্রের জবাব দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, ‘তিনি তো অনেক কিছুই করছেন। তিনি এর আগে কেইস করে (হাইকোর্টে রিট) হেরে গেছেন। এখন মিটিংয়ে থাকবেন কিনা এটা তার ব্যাপার।’

উল্লেখ্য, এর আগে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জেষ্ঠ্যতার ক্রম মানা হয়নি এই অভিযোগে উচ্চ আদালতে রিট করেছিলেন অধ্যাপক ড. সৈয়দুর রহমান যেটি পরে স্থগিত করা হয়েছে।