নেত্রকোনায় মারুফা হত্যার প্রতিবাদকারী আইসিটি মামলায় গ্রেপ্তার, প্রতিবাদ অব্যাহত

47

ইকবাল হাসান: নেত্রকোনায় রহস্যজনক মারুফা হত্যার প্রতিবাদকারী এইচ এম ইলিয়াস আহমেদকে(৩০) আইসিটি মামলায় গ্রেপ্তারের পরও অব্যাহত রয়েছে কিশোরী মারুফা হত্যার প্রতিবাদ। শনিবার (৩০মে) রাতে জেলার বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের নুরুল্লারচর নিজ বাড়ি থেকে এইচএম ইলিয়াস আহমেদ (৩০)কে মোহনগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। 

গ্রেপ্তারকৃত যুবক জেলার বারহাট্টা উপজেলার মৃত আব্দুর রবের পুত্র। এদিকে মোহনগঞ্জ উপজেলার আদর্শনগর এলাকায় শনিবার(৩০মে) দুপুরে আদর্শ নগর সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আজও অব্যাহত রয়েছে মারুফা হত্যার প্রতিবাদ।

গ্রেপ্তারের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান রুবেল জানান, সম্প্রতি গৃহকর্মী মারুফা আক্তার হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনসহ বিশিষ্ট জনের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) অপপ্রচার চালায় গ্রেপ্তারকৃত ইলিয়াস আহমেদ। 

এ ঘটনায় শুক্রবার (২৯মে) তথ্য প্রযুক্তি আইনে ব্যবসায়ী খাইরুল ইসলাম মজুমদার মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইলিয়াস আহমেদকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৯মে (শনিবার) বিকালে বারহাট্টা সিংধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মাহবুব মোর্শেদ কাঞ্চনের মোহনগঞ্জের হাসপাতাল রোডের বাসায় কিশোরী মারুফা আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। কিশোরী মারুফা আক্তার আত্মহত্যা করেছে বলে লাশ নিয়ে চেয়ারম্যান কাঞ্চন নিজেই হাসপাতালে যান। 

পরে শিশুটির গায়ে শরীরের স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন দেখে হাসপাতালের এবং স্থানীয় মানুষদের মাঝে সন্দেহ হলে থানায় খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্তের পর লাশ মারুফার বাবার বাড়ি সিংধা এলাকায় চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে হওয়ায় ভয়ে কলমাকান্দা নানার বাড়িতে নিয়ে দাফন কার্য্য সম্পন্ন করে। চেয়ারম্যান বিভিন্ন ভাবে মারুফার মা আকলিমা আক্তারকে ভয় ভীতি দেখিয়ে আত্মহত্যা মামলা লিপিবদ্ধ করানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে। 

পরে বিভিন্ন প্রতিকূলতা পেরিয়ে ঘটনাস্থল মোহনগঞ্জ থানা ১১ মে (সোমবার) অভিযোগ দাখিল করেন। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে চেয়ারম্যানকে ওইদিন সন্ধ্যায় আটক করে ১২মে (মঙ্গলবার) আদালতে প্রেরণ করে। পরে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে প্রথমে নিম্ন আদালতে হাজির করা হলে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান আদালত । 

১৪মে (বৃহস্পতিবার) জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করলে চার্জশিট আদালতে প্রেরণের আগেই জামিনে বেরিয়ে যান কাঞ্চন চেয়ারম্যান।

এদিকে, যুবসমাজের আন্দোলনের মুখে রহস্যজনক মারুফা আক্তার হত্যা মামলাটি নেত্রকোনা সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।