গরিবের ওএমএস কার্ডে কাউন্সিলরে’র ছেলে-মেয়ের নাম

275

মো: আবদুল কাদের: রায়পুরে সৈয়দ আহমদ এর মতো রিকশাচালকরা ওএমএস কার্ড না পেলেও পৌরসভার গরিবের ওএমএস কার্ডে ভাগ বসিয়েছেন ৯নং ওয়ার্ডের প্রভাবশালী জমিদার ও পৌর ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং আ’লীগ নেতা গোলাম হায়দার চৌধুরী। নিজের ছেলে তানবির হায়দার ও মেয়ে ফারজানা আক্তারের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বিশেষ ওএমএস এর কার্ড পেয়েছেন তারা।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ভিক্ষুক ও ভবঘুরেসহ হতদরিদ্র এবং নিম্নআয়ের মানুষ, যারা কোনও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অন্তর্ভুক্ত নয়, তাদের জন্য বিশেষ ওএমএস সুবিধা চালু করা হয়েছে। এই সুবিধায় একজন ওএমএস কার্ডধারী প্রতি মাসে ১০ টাকা কেজি দরে ২০ কেজি করে চাল পাবেন। সেজন্য রায়পুর পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার ৪০০ জনকে দেয়া হচ্ছে ওএমএস কার্ড। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মাধ্যমে এ তালিকা তৈরি ও কার্ড বিতরণ করা হয়।

বিতরণের শুরুতেই পৌর ৯নং ওয়ার্ডের তালিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ৯নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর নাছির উদ্দিন রাসেল সাবেক কাউন্সিলর গোলাম হায়দারের এক ছেলে ও এক মেয়ের পেশা একজন বেকার উল্লেখ করে ১০৯ ও ৩১৯ নম্বর দু’টি কার্ড বিতরণ করেন। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সচেতন মহলসহ সোশ্যাল মিডিয়ায়। বর্তমান কাউন্সিলর নাছির উদ্দিন রাসেল ১০ টাকা কেজি দরে সরকারিভাবে এই কার্ড তাদের নামে পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে জানা যায়, গোলাম হায়দার ৯নং ওয়ার্ডে প্রভাবশালী জমিদার। তার শত শত ডিসিম জমির মালিকানা ছিলো। ছেলে মেয়েদেরকে ঢাকায় রেখে পড়াশোনা করানোর পাশাপাশি উত্তরায় বাড়িও করেছেন। সেখানে বাড়ি ভাড়া দিয়েছেন। এছাড়াও নিজের ও পরিবারের নামে পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে এলাকাবাসী জানান প্রায় ২ শত ডিসিম জমি রয়েছে।

কার্ড পাওয়া আ’লীগ সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলর ও নেতা গোলাম হায়দারের ফোনে কল দিয়ে না পাওয়া গেলেও তার ছেলে অভিযুক্ত তানভীর হায়দার জানান, এই মুহূর্তে করোনা একটি বৈশ্বিক মহামারী সবার জন্য যেখানে কোটিপতি থেকে নিম্নবিত্ত সবাই ঘরবন্দী এই মুহূর্তে কমবেশি সবাই সমস্যার বিত্তে আটকে পড়েছি এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার খাদ্য কর্মসূচি হিসেবে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে, যেহেতু আমি সম্ভাব্য পরিবার এর সন্তান আমার বাবা বিগত দিনে রায়পুর পৌর ৯ নং ওয়ার্ডে সুনামের সহিত কমিশনার দায়িত্ব পালন করেছেন, রায়পুরের রাজনীতিতে সবাই কমবেশি আমার পরিবার কে চিনে। গত কিছুদিন আগে আমার পরিবারের খোজ খবর নিতে গিয়ে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি আসে তার কাছ থেকে সরকার পদত্ত ও এম এস চাল ১০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হয় জানতে পারি ।

আমি যেহেতু স্টুডেন্ট আমি আমার জমানো টাকা দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কিছু মানুষকে সহোযোগিতা করেছি এবং করার চেষ্টা করতেছি আমার চিন্তা ছিল ১০ টাকা কেজি ধরে কিছু চাল কিনে এর সাথে সেমাই চিনি আরও অন্যান্য দ্রব্য দিয়ে কিছু মানুষকে উপহার দেওয়া এ ব্যাপারে আমার বোন ও আমাকে সহোযোগিতা করে। আমার চিন্তা ছিল সৎ অন্য কিছু না,বিশ্বাস করেন আমাদেরকে আল্লাহ যা দিয়েছেন তাতেই আমরা সন্তুষ্ট। কিন্তু আফসোস কিছু কুচক্রী মহল কিছু লোক আমার আর আমার বোনের কার্ড এর ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেগেটিভ ভাবে প্রকাশ করেছে যা আমি আমার পরিবারকে হেয় করার জন্য এগুলো করেছে,একটি ভালো উদ্যোগ সৎ চিন্তাধারা কে সমাজের কাছে হেয়, ছোট করার জন্য ফেইসবুক প্রচার করছে, আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম, আর আপনাদের হাতে ছেড়ে দিলাম এবং তাদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

৯নং ওয়ার্ডের গরিব বাসিন্দা সৈয়দ আহমেদ মিয়া বলেন, আমাদের মত গরিবের নাম বাদ দিয়ে ওএমএস কার্ডে সাবেক কাউন্সিলরের ছেলে-মেয়ের নাম তোলা হয়েছে। যে দু’জনের নাম দিয়েছেন তারাইতো হাজার হাজার লোককে ত্রাণ দিতে পারে। তিনি এই এলাকার জমিদার সবাই জানে। তার নিজের সুপারি বাগান, অনেকগুলো পুকুর থেকে আয় প্রতিমাসে রয়েছে। কাউন্সিরর নাছির উদ্দিন রাসেল বলেন, তাদের অবস্থা আগে ভালো ছিলো। এখন নেই। এছাড়াও তারা কার্ড নিতে ইচ্ছা পোষণ করায় আমি দিয়েছে।বিষয়টি সঠিক হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ইতস্ত বোধ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, সরকারের এই বিশেষ ওএমএস এর কার্ড দুস্থ ও অসহায় মানুষদের পাওয়ার কথা। কিন্তু পৌর সভার ৯নং ওয়ার্ডে ওএমএস কার্ডের তালিকায় সামর্থ্যবানদের নাম ওঠার বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। ওই দু’টি কার্ড ইতোমধ্যে চিহ্নিত করে তাদেরকে তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। রায়পুর পৌরসভার মেয়র ইসমাইল খোকন বলেন, ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলরের ছেলে ও মেয়েকে এরকম সুবিধা পাইয়ে দেয়ার বিষয়ে বিষয়টি আমি জেনেছি। বর্তমান কাউন্সিলর নাছির উদ্দিন রাসেল সাবেক কাউন্সিলরের ছেলে ও মেয়েকে বিশেষ ওএমএসের কার্ড করে দিয়েছেন।

বিষয়টি দুঃখজনক! আরও অনেকেই হয়ত এ রকম করেছেন। আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করব এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।