একটি মৃত্যু এবং আমাদের আত্মসমালোচনা

326

তানভীর আহমেদ (বুরো প্রধান) চট্টগ্রাম: গতকাল চট্টগ্রাম তথা সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনীতির এক-তৃতীয়াংশের চালিকাশক্তি প্রতিষ্ঠিত শিল্প গ্রুপ ‌ এস আলম এর সম্মানিত পরিচালক জনাব মোরশেদুল আলম ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন ) । ” জন্মিলে মরিতে হইবে ‌” এই অমোঘ অপ্রিয় সত্য কেউ অস্বীকার করতে পারেনি এবং পারবে ও না । কিন্তু মৃত্যুর প্রক্রিয়াটি নিয়ে সুধীমহলে এবং সমগ্র বাংলাদেশের আম জনতার মাঝে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে । বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের করাল গ্রাসে টালমাটাল সমগ্র বিশ্ব । চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি থাকা সত্ত্বেও পৃথিবীর সকল উন্নত রাষ্ট্রসমূহ পর্যন্ত হিমশিম খাচ্ছে এই মহাদুর্যোগ সামলাতে ।

পক্ষান্তরে সীমিত সামর্থের মাঝে ও আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ ও সম্মানিত ডাক্তার বৃন্দ আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই মহাদুর্যোগে আক্রান্ত জনসাধারণ কে সার্বিক চিকিৎসাসেবা প্রদানে । প্রত্যেকটি মানুষ‌ এবং প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা আছে ঠিক তেমনি আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার‌ও‌ বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে । ছোট্ট একটি উদাহরণ দিলেই সবকিছু সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে …১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ৬৩ বছর পরও এখনো আধুনিকায়ন হয়নি । বৃহত্তর চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা এই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল । চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ আজও ‌ নানাভাবে অসুবিধার সম্মুখীন হয় এখানে চিকিৎসা নিতে এসে কিছু প্রক্রিয়াগত কারনে । এই দায় আমার, আপনার এবং আমাদের সকলের । কারণ কখনই দল এবং মতের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা ‌সম্মিলিত ভাবে চেষ্টা করিনি‌ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কে আধুনিকায়ন করতে । এস আলম গ্রুপের সম্মানিত পরিচালক জনাব মোরশেদ সাহেবের মৃত্যুর পর আজ সকলের মনে এই সকল প্রশ্নের উদ্রেক হচ্ছে । ব্যাংক-বীমা, শিল্প খাত সহ অন্তত এগারটি উল্লেখযোগ্য খাতে ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে এই শিল্প গ্রুপ । বৃহত্তর চট্টগ্রামের অসংখ্য মানুষ এই শিল্প গ্রুপের জনকল্যাণমূলক খাতসমূহ থেকে ব্যাপক উপকৃত হয়েছেন এবং এখনও হচ্ছেন ।অন্ন বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা স্বাস্থ্য এগুলো মানুষের মৌলিক চাহিদা । কিন্তু হতাশার বিষয় স্বাস্থ্যখাতে এই প্রতিষ্ঠিত শিল্প গ্রুপ ওইভাবে নজর দিতে পারেনি হয়তো খামখেয়ালীর কারণে অথবা অন্য কোনো অজানা কারনে । যার ফলশ্রুতিতে জনসাধারণ যেমন অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন ঠিক তেমনি এই শিল্প গ্রুপ টিও একই অসুবিধার সম্মুখীন । যার ফলশ্রুতিতে এই অনভিপ্রেত মৃত্যু । এই মৃত্যু শুধু এই প্রতিষ্ঠিত শিল্প গ্রুপের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় নি, সমগ্র চট্টগ্রামবাসীর চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার দৈন্যতা ও জরাজীর্ণতার কাঠামোকে । দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে, দল-মত নির্বিশেষে আসুন আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি সাধনের জন্য সম্মিলিত প্রয়াস গ্রহণ করি । অন্যথায় উন্নত চিকিৎসা সামগ্রীর অভাবে এই ধরনের অনভিপ্রেত মৃত্যুর হাহাকার চট্টগ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে বেজে উঠবে অদূর ভবিষ্যতেও । সর্বশক্তিমান সবাইকে রক্ষা করুন ।