দৌলতপুরে ভন্ড ফকিরের আস্তানায় মাদক সেবীদের অবাঁধ বিচরণ : বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা

183

দৌলতপুর(কুষ্টিয়া) প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভন্ড ফকিরের আস্তানায় মাদক সেবীদের অবাঁধ বিচরণ বেড়েই চলেছে। এরফলে বাড়ছে সেখানকার সামাজিক অস্থিরতা ও ধর্মীয় মতবিরোধ। এনিয়ে সেখানকার মসজিদের মুসল্লি ও মাদকাসক্ত ভন্ড ফকিরের ভক্তদের মধ্যে বাক-তিতন্ডাও হয়েছে। তবে মাদকাসক্ত ভক্তদের অনেকে অন্ধকার জগতের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ভয়ে মুসল্লিরা তাদের অনৈতিক কর্মকান্ডের বাঁধা হতে পারছেননা। তাই তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামের পদ্মনদীর পাড় ঘেষে হঠাৎ করেই কথিত এক ভন্ড ফকিরের আর্বিভাব হয়। রাতারাতি গড়ে তোলা হয় আস্তানা। পিপড়ের লাইনের মত ভক্তদের সারি পড়ে যায়। মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে সামাজিক দূরত্ব বজায় ও জনসমাগম এড়িয়ে চলার সরকারী নির্দেশনা জারি করা হলেও ওই ফকিরের আস্তনায় এ বিধি নিষেধের কোনটিই মানা হয়না। সবসময়ই সেখানে মাস্কবিহীন নেশাখোর ভক্তদের পদচারনা চলে, নিয়মিত বসে গাঁজা সেবনের আসর। পবিত্র রমজান মাসে যখন পবিত্রতার ছোঁয়া সর্বত্র, তখন ভন্ড ফকিরের আস্তানায় চলে অপবিত্র ও অশ্লীল কর্মকান্ড। প্রকাশ্যে চলে গাঁজা সেবন আর গাঁজা সেবনের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে নষ্ট হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ।

কথিত ওই ভন্ড ফকিরের নাম আল আমিন। বাড়ি বাগেরহাট জেলার শিমুলতলীতে। ৬ মাসে আগে সে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগ ইউনিয়নের বাহিরমাদী এলাকায় আসেন। সেখানে সে আস্তানা গাড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে না পারায় প্রায় একমাস আগে একই ইউনিয়নের গোলাবাড়ি এলাকায় পদ্মানদীর পাড় ঘেষে গড়ে তোলেন আস্তানা। আর এ আস্তানা গড়তে সহায়তা করেন ওই এলাকার মহির সর্দারের প্রভাবশালী ডানপিটে ছেলে আলাউদ্দিন। তার ছত্রছায়ায় এ আস্তানায় গাঁজা সেবনের আসর আর অনৈতিক কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে। আস্তানার আসপাশের কয়েকটি মসজিদের ঈমাম ও মুসল্লিরা পবিত্র রমজান মাসে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে গাঁজা সেবনের আসর বসানোর প্রতিবাদ করে উল্টো আলাউদ্দিন গংদের হুমকির শিকার হয়ে আজানা আতঙ্কে নীরব রয়েছেন।

আলাউদ্দিনের আর এক ভাই ওই এলাকার ইউপি সদস্য। তিনিও এসব কর্মকান্ডের নীরব সহযোদ্ধা। তার কাছে নালিশ দিয়েও কোন সহয়তা পায়ানি এলাকাবাসী। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর ফিলিপনগরে ছিল লালচাঁদ বাহিনীর তান্ডব রাজত্ব। সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান লালচাঁদ যা বলতো তাই-ই হতো। কারন তার ওপরে সেসময়ের ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রতিনিধির আশির্বাদ ছিল। তাই সে যা ইচ্ছে তাই করতো। হত্যা, গুম, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ঘর-বাড়ি লুট ও ভাংচুর ছিল লালচাঁদের নিয়ম রুটিন। লালচাঁদের অত্যাচারে অতীষ্ঠ হয়ে সেসময় অনেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছিল। লালচাঁদ য়ুগের অবসান হয়েছে। এখন ফিলিপনগরে বইছে শান্তির সুবাতাশ। ফিলিপনগরের কৃতি সন্তান এ্যাড. আ. কা. এ. সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য। তিনি দৌলতপুরকে আধুনিক দৌলতপুর গড়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ বাতির নীচে অন্ধকারের মত সেই ফিলিফনগরের গোলাবাড়ি গ্রামে চলছে ভন্ড ফকিরের ভন্ডামি আর গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরণের মাদক সেবনের নিয়মিত আসর। আর এই ভন্ড ফকিরের আস্তানায় উঠতি বয়সীসহ বিভিন্ন বয়সীরা যোগ দিয়ে ওই এলাকার পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে। হয়তো ওই ভন্ড ফকিরের আস্তানা থেকে আবারও কোন সন্ত্রাসী বাহিনীর সৃষ্টি হবে যাদের মাধ্যমে ফিলিপনগরসহ দৌলতপুরের মানুষকে অশান্তির আগুনে পুড়তে হবে এমনটায় মনে করছেন ফিলিপনগর-গোলাবাড়ি এলাকার সচেতন মহল। তাই সময় থাকতে এর নিরসন জরুরী।

ভন্ড ফকিরের আস্তানার বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, এমন কর্মকান্ডের খবর আমার জানা নেই এবং কেউ জানায়ওনি। তবে বিষয়টি আমি দেখবো।