দর্জি পাখি টুনটুনি

70

ফয়সাল আহমেদ: মানুষ জন্মের পর পরই পোশাক তৈরি করা বা ঘর-বাড়ীতে বসবাস করা শিখতে পারেনি। ইতিহাস থেকে জানা যায় মানুষ অতীতে গাছের ছাল-বাকল দিয়ে কোন রকমে লজ্জাস্থান ঢেকে রাখত। ধাপে ধাপে কাপড় বানানো শিখল। বর্তমানে মানুষ অনেক আধুনিক জামা-কাপড় তৈরি করতে ও ব্যাবহার করতে শিখেছে। অনেকে ধারনা করেন পশু-পাখিদের দেখেই মূলত মানুষ ঘর-বাড়ি তৈরি করতে উৎসাহ পায়। আর টুনটুনি পাখির দর্জির মতো করে বাসাবাধা দেখেই মানুষের পূর্ব প্রজন্ম জামা-কাপড় ও বসতবাড়ি তৈরি করতে শেখে।

টুনটুনি পাখি নিয়ে কত গল্পগাঁথা আছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। টুনটুনি টুনটুনাল সাত রানীর নাক কাটালো। কিন্তু টুনটুনির বাসাবাধার কারুকার্য মুগ্ধ হয়েই নাকি মানুষ ঘরবাধার স্বপ্ন দেখা শুরু করে। অনন্ত চেষ্ঠা আর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই মানুষ বসবাস করার জন্যে আধুনিক ঘরবাড়ি ও ব্যবহারের জন্যে পোশাক তৈরি করতে সক্ষম হয়।

টুনটুনি পাখিদের দর্জি পাখি বলা হয়। তারা গাছের পাতা ঠোঙার মতো মুড়ে তার পাশে সুতা বা গাছের আঁশ দিয়ে সুন্দারভাবে সেলাই করে এবং সেই ঠোঙার মধ্যে পালক বা তুলা বিছিয়ে ডিম পাড়ে। দর্জির মতো পাতা সেলাই করে বলে তাদের দর্জি পাখি বলা হয়। কাপড় সেলাই করতে হলে আমাদের সুই সুতা ইত্যাদির দরকারহয়, কিন্তু টুনটুনিদের যেযস কিছু জোগাড় করতে হয় না। তাদের ঠোঁট সুইয়ের কাজ করে এবং গাছের ছালের আঁশ জোগাড় করে তারা সুতার কাজ চালায়। এই পাখিরা কেমন করে সেলা করার বিদ্যা শিখল – তা ভাবলে অবাক হতে হয়। টুনটুন পাখিদের আমরা সবাই দেখেছি। আকারে এরা চড়ুই পাখির চেয়েও ছোট। তাদের পিঠের রং কিছুটা খয়েরি, কিন্তু মাথা সাধারণত ধূসর। পেটের তলার পালক সাদাটে। লেজ খুব লম্বা নয়, কিন্তু ডিম পাড়ার সময় পুরুষ পাখিদের লেজের মাঝের দুটি পালক হঠাৎ লম্বা হয়ে যায়। তাই সে সময় পুরুষ পাখিদের লেজ লম্বা দেখা যায়। টুনটুনিরা একসঙ্গে তিন-চারটা করে ডিম পাড়ে। ডিমগুলো দেখতে সাদা, সাদার উপর লালের ছিটেফোঁটাও আছে। বৈশাখ মাস থেকে শুরু করে ভাদ্র মাস পর্যন্ত টুঁই টুঁই শব্দ করে এই চঞ্চল পাখিটি ঝোঁপ-জঙ্গলে ক্রমাগত লাফালাফি করে। পাখিগুলো ছোট; কিন্তু তাদের গলার স্বর নিতান্ত ছোট নয়। যখন টুনটুনিরা গাছের ডালে লাফালফি করে ডাকতে থাকে, তখন অনেক দূর থেকে শোনা যায় সেই আওয়াজ।