“মা” —কি সুমধুর নাম!!

73
নূরুল আলম আবির: “মা” —কি সুমধুর নাম! একবার শুধু একবার ডাকার পরই কলিজাটা ঠাণ্ডা হয়ে যায়। পৃথিবীর সব বিলাসীতা এক করলেও “মা” শব্দের স্বর্গীয় মধুরতার শতকরা একভাগও খুঁজে পাবেন না আপনি। দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করে মৃত্যুর চেয়েও কঠিন যন্ত্রণা ভোগ করে যিনি সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান তাঁকেই মা বলে। এরপর সারাক্ষণ সারাবেলা সারাদিন সারাবছর স্নেহ মমতার ঢালি বিছিয়ে আমাদেরকে বড় করেন যিনি তিনিই মা। শীতের দিনে মাঝরাতে মায়ের গায়ে পায়খানা প্রস্রাব করে দিলেও মা রাগ করেন না। নিজের নাড়িছেঁড়া ধন বলে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে নেন তিনি। ভেজা জায়গায় মা নিজে শুয়ে শীতে প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েও তিনি মহাখুশি। কারণ মায়ের কোলে যে তাঁর কলিজার টুকরো খোকা আছে, খুকি আছে। মা আর মাতৃভূমি অনেক দাবী জিনিস। এ দুই জিনিসকে যে সম্মান করে, ভালোবাসে— সেই সত্যিকারের মহান মানুষ।
মায়ের এক মুহুর্তের ভালোবাসার মূল্য দেয়ার ক্ষমতা কারো নেই। একজন্যই তো আমার সুমহান প্রভু মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জন্য বেহেশত রেখেছেন। আহ্ প্রিয় মা। কত্ত মূল্যবান তুমি। কত দামী তোমার মর্যাদা। তারপরও মাঝে মধ্যে আমরা তা ভুলে যাই। কেউ কেউ আছেন আবার অন্যের মাকে অবহেলা করে নিজের মায়ের প্রতি ভালোবাসা দেখান। মা তো মা-ই। আমার মা আর তোমার মায়ের কোনো প্রার্থক্য নেই ভাই।
বুকের ঘরে যাঁর ডাকে পরম শান্তি লাগে
যাঁর স্নেহে অশ্রু জমে বিশাল আবেগে।
সেতো আমার মা, সেতো তোমার মা
জান্নাতেরই সুখের মত তাঁহার উপমা।
মায়ের চোখে সব সন্তানই আলোঝরা হীরা
কালো ধলো সব খোকাই সুখখচিত তারা।
মাকে তোরা দিস না কষ্ট মরবি যখন তখন
মা হলো ভাই সবার চেয়ে অনেক বেশি আপন।
আজ মহান মা দিবস। শুধু আজ নয় মায়ের মূল্য আমাদেরকে বুঝতে হবে সারাবছর, সারাদিন আর সারাক্ষণ। কোনো একটা মুহূর্তে ভুল করে হলেও মাকে অবহেলা দেয়া যাবে না, কষ্ট দেয়া যাবে না, অস্বীকার করা যাবে না। না হলে আপনার সব স্বপ্নের সিংহাসন নরকের অনলে আচড়ে পড়বে। সব কিছু থাকার পরও আপনার হৃদয়ে জ্বলবে জাহান্নামের অদৃশ্য আগুন। কেউই নেভাতে পারবে না।
পারলে মায়ের চোখে খুশির রাজ্য জড়িয়ে দিন। আনন্দের ঢল নামিয়ে মাকে খুশি রাখুন। মায়ের ময়লা কাপড়গুলো ধুয়ে দিন। মাকে নিজের হাতে নিজের সাথে খাইয়ে দিন। মায়ের চেয়ে নিজ স্ত্রী সন্তানদের বড় করে দেখবেন না। তাহলে ওরা কেউই আপনার কল্যাণে কাজে লাগবে না। তাই মাকে লক্ষ ফুলের পাপড়ি জড়িয়ে, পুষ্প বৃষ্টি ঝরিয়ে সম্মান করুন। দেখবেন আপনিও হয়ে গেছেন অনেক সম্মানী। মায়ের স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন ভেবে তা পূরণ করে দিন। ঈদ, বিয়ে, জন্মদিনের উৎসবে সবার সাথে মায়ের জন্যও চমৎকার চমৎকার উপাহার রাখুন। দেখবেন সুমহান পরম করুণাময় আল্লাহ তাঁর জান্নাতটাকে দুনিয়াতে ও আখেরাতে দুই জায়গাতেই আপনার জন্য মঞ্জুর করে রাখবেন।
লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী
রচনাঃ ১০ মে, ২০২০ ইং।।