করোনা ভাইরাসের সতর্কতা-লক্ষণ-করনীয় জানুন

60

দৌলতপুর(কুষ্টিয়া) প্রতিনিধিঃ বৃহত্তর কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে আমাদের নিয়মিত পাঠকদের জন্য বিশ্বমহামারী কোভিড-১৯ বিষয়ক কিছু তথ্য,সর্তকতা,পরামর্শ তুলে ধরা হলো। করোনা ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। এটি এক ধরনের করোনা ভাইরাস। ভাইরাসটির অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসটি হয়তো মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতোমধ্যে ‘মিউটেট করছে’, অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে। ফলে এটি আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এ ভাইরাস একজন মানুষের দেহ থেকে আরেকজন মানুষের দেহে ছড়াতে পারে।

ভয়াবহতা: এই ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়। সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডা লাগার মতো করেই এ ভাইরাস ছড়ায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে। তবে এর পরিণামে অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া, নিউমোনিয়া এবং মৃত্যু ঘটারও আশঙ্কা রয়েছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের দুই শতাংশ মারা গেছেন, হয়তো আরও মৃত্যু হতে পারে। তাছাড়া এমন মৃত্যুও হয়ে থাকতে পারে যা চিহ্নিত হয়নি। তাই এ ভাইরাস ঠিক কতটা ভয়ংকর, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি। সারাবিশ্বে এরই মধ্যে ২০০টির বেশি দেশে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস, বিশ্বব্যাপী প্রাণহানি হয়েছে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষের। নতুন এই রোগটিকে প্রথমদিকে নানা নামে ডাকা হচ্ছিল, যেমন: ‘চায়না ভাইরাস’, ‘করোনাভাইরাস’, ‘২০১৯ এনকভ’, ‘নতুন ভাইরাস’, ‘রহস্য ভাইরাস’ ইত্যাদি। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগটির আনুষ্ঠানিক নাম দেয় কোভিড-১৯ যা ‘করোনাভাইরাস ডিজিজ ২০১৯’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।

এক দশক আগে সার্স (পুরো নাম সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) নামে যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৮০০ লোকের মৃত্যু হয়েছিল সেটিও ছিল এক ধরনের করোনা ভাইরাস। এতে আক্রান্ত হয়েছিল ৮ হাজারের বেশি মানুষ। আর একটি ভাইরাসজনিত রোগ ছিল মিডল ইস্টার্ন রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা মার্স। ২০১২ সালে এতে মৃত্যু হয় ৮৫৮ জনের।

লক্ষণ: রেসপিরেটরি লক্ষণ ছাড়াও জ্বর, কাশি, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ। এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে। সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ দেখা দেয়, পরে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচদিন সময় নেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভাইরাসটির ইনকিউবেশন পিরিয়ড ১৪দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। তবে কিছু কিছু গবেষকের মতে এর স্থায়িত্ব ২৪দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। মানুষের মধ্যে যখন ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেবে তখন বেশি মানুষকে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকবে তাদের।

তবে এমন ধারণাও করা হচ্ছে যে নিজেরা অসুস্থ না থাকার সময়ও সুস্থ মানুষের দেহে ভাইরাস সংক্রমিত করতে পারে মানুষ। শুরুর দিকের উপসর্গ সাধারণ সর্দিজ্বর এবং ফ্লু’য়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্থ হওয়া স্বাভাবিক। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অনেককে সার্স ভাইরাসের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে যা ২০০০ সালের শুরুতে প্রধানত এশিয়ার অনেক দেশে ৭৭৪ জনের মৃত্যুর কারণ হয়েছিলো । নতুন ভাইরাসটির জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এটি অনেকটাই সার্স ভাইরাসের মতো।

সতর্কতা: গরম পানি ও সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধুয়ে নিন অথবা সেনিটাইজার জেল ব্যবহার করুন। হাঁচি-কাশি দেয়ার জন্য কাপড় বা টিস্যু ব্যবহার করুন। ব্যবহৃত বস্তুটি একবার ব্যবহার করেই ঢাকনা যুক্ত ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন। টিস্যু না থাকলে জামার হাতা ব্যবহার করুন। নিয়ম মতো হাত না ধুয়ে চোখ নাক মুখ স্পর্শ করবেন না। উপসর্গের সাথে মিল আছে এমন মানুষ থেকে দূরে থাকুন। বাড়িতে নিরাপদ দুরত্বে থাকুন পরিবারের সাথে আর বাইরে একেঅপরের সাথে ৬ ফুট দুরত্ব বজায় রাখুন,মাস্ক-গ্লাাভস ব্যবহার করুন। খুব বেশি জরুরী না হলে বাইরে যাবেন না। ব্যবহৃত পোশাক,জুতা,গ্লাভস,মাস্ক বাড়িতে অন্য পোশাকের সাথে মেশাবেন না। নিরাপদ দুরুত্বে রাখুন। নিয়ম জেনে ব্যবহার করুন।

অসুস্থ বোধ হলে কি করবেন: বাংলাদেশের বর্তমান আবহাওয়া সর্দি-কাশি,হাঁচি,জ্বর হতেই পারে। অনেকেরই এ্যাজমা জনিত কারনে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। ঘাবড়াবেন না। ঘরে বসে নিকটস্থ নির্ভরযোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার চেষ্টা করুন। উপসর্গে সন্দেহ হলে আগেই পরিবারের সকলের থেকে নিজ উদ্যোগে দূরে থাকুন। সরকার কর্তৃক প্রেরণ করা হটলাইন নম্বর গুলোতে ফোন করে সাহায্য চান। সম্ভব না হলে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা থানার সহায়তা নিন। নিজে ঘরেই থাকুন।