ঘন্টা বাজিয়ে সাহসী চিকিৎসকদের শ্রদ্ধা পুরো ভারতের

34

আন্তজার্তিক ডেস্ক: জনতা কারফিউয়ের ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মৌদি নিজেই। আজ রোববার সারা দেশ দল, মত, জাত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে যেভাবে তারঁ ডাকে ১৪ ঘন্টার জন্য কারফিউয়ে শামিল হতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিল তা অভূতপূর্ব। কোনো বিপর্যয়ের মোকাবিলায় ভারতবাসীকে এভাবে এক জোট হতে আগে দেখা যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, রোববার বিকেল পাচঁটায় গোটা দেশের মানুষ যে যার বাড়ির ছাদ, বারান্দা অথবা চৌহদ্দিতে এসে কাসঁর, ঘন্টা, থালা বাসন বাজান। হাততালি দেন। দেশের জন্য যাঁরা জীবন বাজি রেখে করোনা মোকাবিলা করছেন, ওটা হবে তাদেঁর প্রতি জনতার শ্রদ্ধা জ্ঞাপন। সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে মেনে রোববার বিকেল পাচঁটায় গোটা দেশ মুখরিত হয়ে উঠল। দেশের মানুষের এইভাবে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন আগে দেখা যায়নি।

এটা যদি বিপর্যয় মোকাবিলার ইতিবাচক দিক হয়ে থাকে, তা হলে দুশ্চিন্তার হলো একদিনেই ভারতে করোনাক্রান্ত আরও তিন জনের মৃত্যু। এই তিন মৃত্যু নিয়ে এখনো পর্যন্ত দেশে করোনার মোট বলি হলেন ৭ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪১। এরা ছাড়া ২৬ জন আক্রান্ত রোগি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

করোনা মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতা দেখা দিলেও ভারতীয় সংসদের অধিবেশন বন্ধ করা হয়নি। বিরোধীদের প্রবল দাবির মুখে আজ সোমবার সম্ভবত সংসদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতে চলছে। জনতা কারফিউয়ের সাফল্যের রেশ থাকতে থাকতেই করোনার মোকাবিলায় রোববার রাত বারোটা থেকে সারা দেশে সব ধরনের ট্রেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দূর পাল্লার সব ট্রেনের পাশাপাশি সারা দেশের সব রাজ্যে লোকাল ট্রেনও বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে মেট্রোও। এই সঙ্গে রাজধানী দিল্লির সর্বত্র রোববার রাত থেকেই জারি করা হলো ১৪৪ ধারা। এই ধারায় ৪ জনের বেশি যে কোনো সমাবেশ নিষিদ্ধ। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, প্রয়োজনে এই ধরণের কারফিউ ফের জারি করা হতে পারে।

শুধু একদিনের জন্য জনতা কারফিউ নয়, দেশের মোট ৭৫টি জেলা ৩১ মার্চ পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ গোষণা করা হয়েছে। এই জেলাগুলো থেকে কেউ এই কদিন বাইরে যেতে পারবেন না। কেউ ঢুকতেও পারবেন না। চালু থাকবে শুধু অত্যাবশ্যক পণ্য পরিষেবা। ভিন রাজ্যের বসবাসকারী মানুষজনের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে-বাসে চেপে বাড়ি ফিরবেন না। তাতে নিজের তো বটেই পরিবারকেও ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে। মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের বিভিন্ন শহরে কাজের সন্ধানে যাওয়া উত্তর ও পূর্ব ভারতের মানুষজনকে কয়েকটাদিন অপেক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ওই রাজ্যগুলো থেকে কদিন ধরে বিশেষ ট্রেন চালানো হয়েছে। রোববার রাত থেকে সব বন্ধ।