আমরা প্রজা ওনারা রাজা-নূর মোহাম্মদ খাঁন মাসুদ

70

কালজয়ী ডেস্ক: কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীনের ক্ষমতা জাহির করার পদ্ধতিটি ঐতিহাসিক চরিত্র অত্যাচারী শাসক হালাকু খাঁনের কথা স্মরণ করিয়া দিল। ডিসি সুলতানা পারভীনের নির্দেশে মধ্যরাতে আর.ডি.সি নাজিম উদ্দিন এবং সহকারী কমিশনার রিন্ঠু চাকমার নেতৃত্বে অর্ধশত লোক লস্কর নিয়ে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের বাড়ী আক্রমণ করে তাঁকে ডিসি অফিসে ধরে এনে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে বানোয়াট অভিযোগে যেভাবে সাজা দেওয়া হল, তা’ আজকের সভ্য দুনিয়ায় কোন দেশে হয় কিনা জানি না। সাংবাদিকের বাড়ীর দরজা ভেঙ্গে, তাকে ডিসি অফিসে ধরে আনার পর পুনরায় বিবস্ত্র করে দৈহিক নির্যাতন চালিয়ে, বানোয়াট অভিযোগ এনে তথাকথিত বিচারের নামে যে সাজা দেওয়া হল, তা মধ্যযুগের শাসকদের শাসন পদ্ধতির একটি আধুনিক সংস্করণ ছাড়া আর কি বলা যায়। রাষ্ট্রের বেতনভূক কর্মকর্তা ও তার কতিপয় সহযোগী কর্তৃক মাঝ রাতে এক নাগরিককে ধরে এনে নির্যাতন চালিয়ে এবং জেলে পাঠিয়ে উক্ত ডিসি যেভাবে তার ব্যক্তিগত অক্রোশ ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করলেন, স্বাধীনতা লাভের পর এই জাতীয় ঘটনার আর কোন দ্বিতীয় নজির নেই। এই ঘটনা সারাদেশের মানুষের মনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। দেশের নাগরিক সমাজ জানতে চায়, ডিসির মত গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী এবং তার সহাযোগীদের কৃতকর্ম কোনো আইনের আওতায় পড়ে কিনা। রাষ্ট্রের এবং সরকারের ভাবমূর্তির উপর আঘাত হানা এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। চাকুরী চ্যুতি সহ ফৌজদারী দণ্ড বিধিতে দ্রুত বিচার আদালতে এদের বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। কারণ একটি স্বাধীন ও সভ্য দেশের সরকারী কর্মকর্তাদের এই জাতীয় আচরণ দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কা সব সময় থেকে যায়। রাষ্ট্র, সরকার, নাগরিক কেউ এদের হাতে নিরাপদ নয়। পদোন্নতি পেয়ে এরা আরো উচ্চ পদে আসীন হলে এদের দ্বারা রাষ্ট্রের স্বার্থের হানিকারক আরো অনেক বড় ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। কিন্তু আমাদের দেশের কিছু কিছু সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীর খাসলত উপনিবেশিক পাকিস্তানী ও বৃটিশ আমলাদের মতই। স্বাধীন বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ডিসি সুলতানা পারভীনদের মত আমলারা নিজেদেরকে সাধারণ নাগরিকদের থেকে আলাদা এবং উচ্চ শ্রেণির মানুষ হিসেবে ভাবেন। সাধারণ নাগরিকদের প্রতি সুলতানা পারভীনদের আচরণে মনে হয় যে, নাগরিকগণ তাদের অধীনস্থ প্রজা। সচিবালয় থেকে জেলায় ডিসি পদে পোস্টিং পেয়ে সুলতানা পারভীনদের মত কর্মকর্তাদের চালচলন, আচরণ ও দর্শনার্থীদের সাথে স্বাক্ষাতকারে তাদের দম্ভ এবং অহমিকার প্রকাশ এতই প্রবল হয় যে, মনে হয় তারা সেই জেলার রাজা আর নাগরিকগণ তাদের করুণা প্রার্থী প্রজা। আমাদের দেশের নারীরা দূর্বল, অবলা, স্নেহময়ী বা মমতাময়ীই শুধু নন, তাদের মধ্যে সুলতানা পারভীনদের মত স্বভবের মেয়েরাও আছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় সমীপে নিবেদন, কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্ঠু চাকমা সহ এই অপকর্মের সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

লেখক : সচেতন নাগরিক